খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
চট্টগ্রাম বন্দরে আবারও ধর্মঘটের কারণে কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে পড়েছে। বন্দরের নিয়ন্ত্রণ আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলসহ চার দফা দাবি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে কর্মবিরতি শুরু করেছে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকে সব জেটিতে পণ্য ও কনটেইনার ওঠানামা বন্ধ রয়েছে। বন্দরের ভেতরে কোনো ধরনের ট্রেলার বা পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহন প্রবেশ করেনি। শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম একপ্রকার বন্ধ হয়ে গেছে।
সংগ্রাম পরিষদের অভিযোগ, আন্দোলন দমাতে প্রশাসন ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে। বন্দর ও আশেপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। একইসঙ্গে, সংগঠনের দুজন কর্মী শামসু মিয়া ও আবুল কালাম আজাদকে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন বলেন, “সকাল থেকেই ধর্মঘট চলছে, শ্রমিক-কর্মচারীরা শতভাগ সমর্থন দিয়ে কাজ করছেন না। প্রশাসন আমাদের আন্দোলন দমন করতে অন্যান্য পদ্ধতি অবলম্বন করছে।”
এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ৩১ জানুয়ারি থেকে বন্দরের জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল কর্মবিরতির ডাক দেয়। পরে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে আন্দোলন চালানো হয়। গত মঙ্গলবার থেকে সংগ্রাম পরিষদ লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেন।
গত বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন চট্টগ্রাম বন্দরে আসেন। শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর দুইদিনের জন্য কর্মবিরতি স্থগিত রাখা হয়। এরপর শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রোববার সকাল ৮টা থেকে আবারও ধর্মঘটের ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংগ্রাম পরিষদের দাবিসমূহের মধ্যে রয়েছে:
১. আন্দোলনরত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে গৃহীত সকল শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল।
২. কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া।
৩. চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার করা।
৪. ডিপি ওয়ার্ল্ডের নেটওয়ার্কে নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত বাতিল।
নিচের টেবিলে কর্মবিরতির সংক্ষিপ্ত তথ্য উপস্থাপন করা হলো:
| তারিখ | সময় | ধর্মঘটকারী সংস্থা | প্রধান দাবি | প্রভাবিত কার্যক্রম | বিশেষ ঘটনা |
|---|---|---|---|---|---|
| ৩১ জানুয়ারি | সকাল | জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল | এনসিটি পরিচালনার প্রতিবাদ | কনটেইনার ওঠানামা ব্যাহত | প্রথম কর্মবিরতি |
| ৪ ফেব্রুয়ারি | সকাল | সংগ্রাম পরিষদ | চার দফা দাবি | বন্দরের অপারেশন বন্ধ | লাগাতার ধর্মঘট শুরু |
| ৬ ফেব্রুয়ারি | দুপুর | সংগ্রাম পরিষদ | – | অস্থায়ী স্থগিত | নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক |
| ৮ ফেব্রুয়ারি | সকাল ৮টা | সংগ্রাম পরিষদ | চার দফা দাবি | সমস্ত জেটি বন্ধ | আবারও লাগাতার ধর্মঘট |
বন্দর সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ধর্মঘটের কারণে বন্দরের রফতানি ও আমদানি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, যদি ধর্মঘট দীর্ঘায়িত হয়, তবে দেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে।