ঢাকার ধামরাই উপজেলার বাথুলী এলাকায় রবিবার (১৫ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে বিদ্যুৎ স্পর্শে এক যুবকের মৃত্যু ঘটে। নিহত ছানোয়ার হোসেন (২৫) পাবনার বেড়া উপজেলার মোহনগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা এবং মো. রেজাউল হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় গার্মেন্টস শ্রমিক ছিলেন এবং চাকরির সুবাদে ধামরাইয়ের বাথুলী বাস স্ট্যান্ড এলাকায় মো. সোহরাবের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন।
নিহতের মামাতো ভাই মো. হারুন জানান, দুপুরে বাসায় কাজ করার সময় ছানোয়ার হোসেন বিদ্যুতের সংস্পর্শে আসে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত মানিকগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, “আসার আগেই তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন।” মৃতদেহ বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে সংরক্ষণ করা হয়েছে। মানিকগঞ্জ সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ময়নাতদন্তের ফলাফলের পরে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে বিদ্যুৎপৃষ্টে মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”
স্থানীয় সূত্র মতে, বাথুলী এলাকায় অনেক পুরনো ও খোলা বৈদ্যুতিক তার রয়েছে, যা স্থানীয়দের জন্য বিপদজনক হয়ে উঠেছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে জনগণ সচেতনতার পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে।
মৃত যুবকের তথ্য সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| নাম | বয়স | পিতার নাম | গ্রামের নাম | পেশা | বর্তমান ঠিকানা | হাসপাতাল | ঘটনার সময় |
|---|---|---|---|---|---|---|---|
| ছানোয়ার হোসেন | ২৫ | মো. রেজাউল হোসেন | মোহনগঞ্জ, বেড়া | গার্মেন্টস শ্রমিক | বাথুলী বাসস্ট্যান্ড, ধামরাই | মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল | ১৫ মার্চ, দুপুর ১টা |
স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, ধামরাইয়ের এই এলাকায় গত কয়েক বছরে বিদ্যুৎ সংক্রান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি করা হয়নি। এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, পুরনো লাইন এবং খোলা তারের কারণে প্রায়শই ছোট ছোট দুর্ঘটনা ঘটে। এ কারণে তারা প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
নিহতের পরিবারও জানিয়েছে, ছানোয়ার হোসেন ছিলেন পরিবারের একমাত্র ছেলে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনরা শোকাহত। তারা স্থানীয় প্রশাসন এবং বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে ঘটনার পূর্ণ তদন্ত করে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য অনুরোধ করেছেন।
প্রাথমিক তদন্তে ধামরাই থানার পুলিশ জানিয়েছে, বিদ্যুতের স্থাপনাগুলো নিরাপদ না হওয়ায় এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই তারা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছে এবং স্থানীয় বিদ্যুৎ সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটন করবে।
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে যাতে ভবিষ্যতে পুনরায় এমন ঘটনা না ঘটে এবং এলাকার সাধারণ মানুষ নিরাপদে থাকেন।