নওগাঁয় ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের ১১ নেতাকর্মীকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের বলিহার ব্রিজ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই এলাকায় মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে—এমন খবর পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিস্তারিত নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ। তবে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা নওগাঁ জেলার আত্রাই, রাণীনগর, সাপাহার ও নিয়ামতপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী, বলিহার ব্রিজ এলাকায় কয়েকজনের জড়ো হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সেখানে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও অবস্থান নেন। পরে মিছিলের প্রস্তুতির অভিযোগে ১১ জনকে আটক করা হয়। এরপর খবর পেয়ে ডিবি পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়।
নওগাঁ জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব তাজুল ইসলাম তাজ বলেন, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছেন—এমন খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বলিহার ব্রিজ এলাকায় অবস্থান নেন। এ সময় বলিহার ও ভীমপুর ইউনিয়নের বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় ১১ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তিনি আরও বলেন, নওগাঁ জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জেলার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে কাজ করছেন। কেউ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে আটকের বিষয়ে নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান তাৎক্ষণিকভাবে অবগত নন বলে জানিয়েছেন। ফলে থানার পুলিশের পক্ষ থেকে আটকের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি হাসিবুল্লাহ হাবিব বলেন, মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে—এমন খবর পাওয়ার পর বলিহার ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
ডিবির এই কর্মকর্তা জানান, আটক ব্যক্তিদের কোনো নাশকতা বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পরিকল্পনা ছিল কি না, জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তা যাচাই করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মামলা হয়েছে কি না, কিংবা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত কিছু জানায়নি। ফলে অভিযোগের প্রকৃত ধরন ও আটকের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া পুলিশের তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।


