খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে চৈত্র ১৪৩২ | ৫ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নওগাঁ জেলায় নতুন করে প্রযুক্তি নির্ভর তেল বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফুয়েল কার্ডের পর এবার মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তেল বিক্রি শুরু হয়েছে। রোববার দুপুর থেকে সদর উপজেলার প্রাথমিকভাবে ১১টি পেট্রলপাম্পে এই নতুন পদ্ধতিটি কার্যকর করা হয়। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চালু হওয়া এই ব্যবস্থা তেলের স্বচ্ছতা বাড়াতে সাহায্য করবে, তবে স্থানীয় ভোক্তারা বলেন, এতে কিছু নতুন ভোগান্তিও তৈরি হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এখন থেকে ফুয়েল অ্যাপ ব্যবহার করে সব গ্রাহককে তেল নিতে হবে। অ্যাপের মাধ্যমে তেলের পরিমাণ, গাড়ির মাইলেজ, লাইসেন্স নম্বর এবং গাড়ির ধরন সংরক্ষিত থাকবে। মোটরসাইকেল বা গাড়ির জন্য নির্ধারিত নিয়মাবলী নিম্নরূপ:
| যানবাহন ধরণ | একবারে তেলের মূল্য | পরবর্তী তেল গ্রহণের শর্ত |
|---|---|---|
| মোটরসাইকেল | ৫০০ টাকা | ১২৫ কিলোমিটার চালনার পর |
| কার | নির্ধারিত ভেরিয়েবল | নির্দিষ্ট মাইলেজ অনুযায়ী |
যদি কেউ নির্ধারিত মাইলেজ পূর্ণ না করে অন্য পাম্পে তেল নিতে যায়, অ্যাপের মাধ্যমে তা চিহ্নিত হবে। পাইলট প্রকল্পের আওতায় ধীরে ধীরে জেলার সব ফিলিং স্টেশনে এই পদ্ধতি কার্যকর করা হবে।
সাকিব ফিলিং স্টেশনে সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি তেলের জন্য অপেক্ষমাণ। চালকেরা অভিযোগ করছেন, তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। নতুন অ্যাপে তথ্য দেওয়াতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে, যা ভোগান্তি তৈরি করছে।
তবে অনেকেই প্রযুক্তি নির্ভর এই উদ্যোগকে প্রশংসা করেছেন। তাঁরা বলেন, অ্যাপের মাধ্যমে তেল বিতরণ করলে মজুত ও অপব্যবহার রোধ হবে।
মোটরসাইকেল চালক ইউনুস মন্ডল বলেন, “আগে অনেক চালক মজুত থাকা সত্ত্বেও বারবার লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিয়ে যেত। অ্যাপের মাধ্যমে এটি বন্ধ হবে। আমরা চাই প্রশাসন এই ব্যবস্থা কার্যকর রাখুক।”
আরেক গ্রাহক মাসুদ রানা বলেন, “তীব্র রোদে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নেওয়া বড় ভোগান্তি। নতুন অ্যাপে তথ্য দেওয়াতে আরও সময় লাগছে। প্রশাসন যেন দ্রুত এটি সহজ করার পদক্ষেপ নেন।”
সাকিব ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক আল আমিন জানিয়েছেন, “জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে সকাল থেকেই তেল বিতরণ করা হচ্ছে। এতে কেউ একাধিকবার তেল নিতে পারবে না। আমাদেরও তেল বিতরণে সুবিধা হচ্ছে।” জেলা প্রশাসন তাঁদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনুল আবেদিন বলেন, “আজ সকাল থেকে সদর উপজেলার সব ফিলিং স্টেশনে অ্যাপের মাধ্যমে তেল দেওয়া হচ্ছে। কেউ নির্ধারিত মাইলেজ ছাড়িয়ে তেল মজুত করলে তা ধরা পড়বে। আমাদের ট্যাগ অফিসাররা প্রতিটি পাম্পে মনিটর করছেন। পর্যায়ক্রমে জেলা জুড়ে এটি কার্যকর করা হবে।”
এই নতুন পদ্ধতি তেলের স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিত করবে, তবে স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, আরও দ্রুত ও সুবিধাজনক প্রণালী প্রয়োজন।