খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২১ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দেশের পৃথক দুটি জেলায় গত সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন শিশুসহ মোট সাতজন। নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় একই পরিবারের চারজন এবং কক্সবাজারের টেকনাফে তিন যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ডাকাতি এবং পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এই নৃশংস ঘটনাগুলো ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে সোমবার দিবাগত রাতে এক গরু ব্যবসায়ীর পরিবারের চার সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীকে গলা কেটে এবং তাদের দুই শিশু সন্তানকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়।
মঙ্গলবার ভোরে নিহতের বাবা নমির হোসেন ছেলের ঘরের দরজার সামনে রক্ত দেখতে পেয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে বিছানার ওপর চাদর দিয়ে ঢাকা অবস্থায় চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত হাবিবুর রহমান পেশায় একজন গরু ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি সোমবার রাতে মান্দার চৌবাড়িয়া হাট থেকে গরু বিক্রি করে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরেন। পুলিশের ধারণা, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ এবং স্বর্ণালঙ্কার লুট করার উদ্দেশ্যেই দুর্বৃত্তরা বাড়িতে প্রবেশ করেছিল। পরিচয় গোপন রাখতে তারা পরিবারের সবাইকে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, নিহত দম্পতিকে গলা কেটে এবং শিশুদের ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। ঘর থেকে নগদ টাকা ও কানের দুলসহ স্বর্ণালঙ্কার লুট হওয়ার আলামত পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শীলখালী এলাকার গহিন পাহাড় থেকে মঙ্গলবার সকালে তিন যুবকের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয় ইউপি সদস্য হুমায়ুন কাদেরের তথ্যমতে, সোমবার দিবাগত রাত বা মঙ্গলবার ভোরের কোনো এক সময় তাদের অপহরণ করে পাহাড়ে নিয়ে হত্যা করা হয়।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, নিহতদের মধ্যে মজিদ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপহরণ ও মানব পাচারসহ অন্তত ৬টি মামলা রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, মানব পাচার বা অপহরণ সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। এই ঘটনায় আরও দুইজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিচে দুই জেলার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের তথ্য এবং ঘটনার প্রাথমিক কারণ উপস্থাপন করা হলো:
| জেলা ও স্থান | নিহতদের নাম | বয়স/পরিচয় | মৃত্যুর ধরণ | সম্ভাব্য কারণ |
| নওগাঁ (নিয়ামতপুর) | হাবিবুর রহমান | ৩৫ বছর (গরু ব্যবসায়ী) | গলা কাটা | ডাকাতি ও অর্থ লুট |
| পপি খাতুন | ৩০ বছর (হাবিবুরের স্ত্রী) | গলা কাটা | ডাকাতি | |
| পারভেজ হোসেন | ১০ বছর (৫ম শ্রেণি) | মাথায় আঘাত | পরিচয় গোপন রাখা | |
| সাদিয়া খাতুন | ০৩ বছর | মাথায় আঘাত | পরিচয় গোপন রাখা | |
| কক্সবাজার (টেকনাফ) | মজিদ | নুরুল কবিরের ছেলে | গলা কাটা | মানব পাচার ও কোন্দল |
| নুরুল বশর | নুরুল ইসলামের ছেলে | গলা কাটা | অপহরণ সংক্রান্ত | |
| রবি | রুহুল আমিনের ছেলে | গলা কাটা | অপহরণ সংক্রান্ত |
উভয় ঘটনায় পুলিশ অপরাধীদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে। নওগাঁর ঘটনায় সিআইডি ও পিবিআই আলামত সংগ্রহ করেছে। টেকনাফের ঘটনায় নিখোঁজ অন্য দুই ব্যক্তিকে উদ্ধারে পাহাড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। জনমনে চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী এই হত্যাকাণ্ডগুলোর নেপথ্যে থাকা মূল হোতাদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। উভয় থানায় পৃথক দুটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান।