খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ডক্টর ওয়েব সম্প্রতি একটি নতুন ধরনের ম্যালওয়্যার শনাক্ত করেছে, যা বিশেষভাবে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে তৈরি। প্রতিষ্ঠানটির গবেষকরা জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি এই ম্যালওয়্যারটি ফোনের কর্মক্ষমতা ধীরে ধীরে কমিয়ে দেয় এবং ব্যবহারকারীর অজান্তে ব্যাটারি দ্রুত শেষ করতে সক্ষম।
ম্যালওয়্যারটি সাধারণ চুরি বা অর্থনৈতিক জালিয়াতির পরিবর্তে ফোনের ব্যাকগ্রাউন্ডে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিজ্ঞাপনে ক্লিক করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এর ফলে ফোনে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়, যা ধীরগতি, অতিরিক্ত গরম হওয়া, এবং ব্যাটারির দ্রুত ক্ষয়ের মতো সমস্যা তৈরি করে।
ডক্টর ওয়েবের গবেষকরা জানিয়েছেন, এই ম্যালওয়্যার ব্যবহারকারীর ডিভাইসে প্রদর্শিত বিজ্ঞাপনের ধরন ও কনটেন্ট বিশ্লেষণ করে নিজে থেকে ক্লিক করতে পারে, ফলে ব্যবহারকারীর কোনো কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করা হয় না। তবে দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় থাকার কারণে ফোনের কর্মক্ষমতা ও ব্যাটারি উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ম্যালওয়্যারটি মূলত বিভিন্ন অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত, অজানা উৎস থেকে ডাউনলোড করা অ্যাপ বা মডিফায়েড অ্যাপ/এপিকে (APK) ফাইলের মাধ্যমে এটি প্রবেশ করে। ব্যবহারকারীর সচেতনতাই এই ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
নিম্নের টেবিলে এই ম্যালওয়্যারের মূল বৈশিষ্ট্য এবং প্রভাব দেখানো হলো:
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| লক্ষ্য | অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা |
| প্রযুক্তি | কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) |
| কাজের ধরন | স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিজ্ঞাপনে ক্লিক করা |
| প্রভাব | ব্যাটারি দ্রুত শেষ, ফোন ধীর, অতিরিক্ত গরম হওয়া, অ্যাপ ধীরগতি |
| তথ্য চুরি | নয় (ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে না) |
| ছড়ানোর মাধ্যম | অজানা উৎস থেকে ডাউনলোড করা অ্যাপ ও মডিফায়েড APK |
| প্রতিরোধ | প্লে প্রটেক্ট ব্যবহার, অজানা উৎস থেকে অ্যাপ ডাউনলোড এড়ানো |
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
১. অজানা উৎস থেকে কোনো অ্যাপ ডাউনলোড করবেন না।
২. মডিফায়েড বা APK ফাইল ব্যবহার এড়াতে হবে।
৩. প্লে স্টোরের প্লে প্রটেক্ট সক্রিয় রাখুন।
৪. নিয়মিত ফোনের সফটওয়্যার আপডেট করুন।
গবেষকরা সতর্ক করেছেন, প্রযুক্তিগত সুরক্ষা থাকলেও ব্যবহারকারীর সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নাহলে এই ধরনের ম্যালওয়্যার ফোনের দীর্ঘমেয়াদি কর্মক্ষমতা ও ব্যাটারির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।