নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় সুতী সাইডুলী নদী থেকে এক নবজাতক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের কোনাপাড়া ফেরিঘাট সংলগ্ন নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় শিশুটির মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে নদীর তীরে কয়েকজন জেলে ও পথচারী পানির ওপর ভেসে থাকা একটি ছোট দেহ দেখতে পান। কাছে গিয়ে তারা বুঝতে পারেন এটি একটি নবজাতক শিশুর মরদেহ। ঘটনাটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা কেন্দুয়া থানা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে এবং প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাকসুদ জানান, উদ্ধার হওয়া শিশুটি একটি ছেলে নবজাতক। তবে তার পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোণা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনাটিকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং এর পেছনের কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জন্মের পরপরই কোনো একসময় শিশুটিকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, না কি অন্য কোনো পরিস্থিতির ফল—তা নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে পুলিশ। স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ ধরনের ঘটনা সমাজের জন্য গভীরভাবে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সচেতন মহল। বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, অবাঞ্ছিত গর্ভধারণ প্রতিরোধ, এবং অসহায় মায়েদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় ও সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে।
নিচে ঘটনাটির সারসংক্ষেপ একটি সারণিতে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় |
তথ্য |
| ঘটনাস্থল |
কোনাপাড়া ফেরিঘাট, কেন্দুয়া, নেত্রকোণা |
| উদ্ধার সময় |
২৯ মার্চ, বেলা সাড়ে ১১টা |
| মৃত শিশুর অবস্থা |
নদীতে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার |
| লিঙ্গ |
ছেলে নবজাতক |
| পরিচয় |
অজ্ঞাত |
| পরবর্তী ব্যবস্থা |
ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ |
| তদন্তের অবস্থা |
চলমান |
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শিশুটির পরিচয় শনাক্ত এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।