খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১৪ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় বিয়ের মাত্র ২৪ দিনের মাথায় স্বপ্না আক্তার (২১) নামের এক নববধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে জানা যাবে।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের বাঁশাগারী গ্রামে স্বামীর বাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে নগরকান্দা থানা পুলিশ। নিহত স্বপ্না আক্তার ফরিদপুর সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ঠেঙ্গামারি গ্রামের বাসিন্দা হান্নান মোল্লার মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২৪ দিন আগে স্বপ্নার বিয়ে হয় একই উপজেলার বাঁশাগারী গ্রামের শওকত মাতুব্বরের ছেলে খায়ের মাতুব্বরের (২৫) সঙ্গে। বিয়ের পর থেকেই স্বপ্না স্বামীর বাড়িতে বসবাস করছিলেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার (১৩ মার্চ) দিবাগত রাতের কোনো এক সময় স্বপ্না গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। শনিবার সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মাহামুদুল হাসান, নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ এবং উপপরিদর্শক (এসআই) রবিউল ইসলাম। পরে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে তা ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদন হাতে এলে এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণ—তা পরিষ্কার হবে।
ঘটনার পর থেকেই স্বপ্নার স্বামী খায়ের মাতুব্বর পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিষয়টি তদন্তের অংশ হিসেবে তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, মরদেহে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের মতো চিহ্ন দেখা গেছে। তবে সেগুলো মৃত্যুর আগে না পরে হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা ধরনের আলোচনা চলছে।
স্বপ্নার মা হালিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল রাতে মেয়ের জামাইকে অনেকবার ফোন করেছি, কিন্তু সে ফোন ধরেনি। আজ সকালে জানতে পারি আমার মেয়ে নাকি আত্মহত্যা করেছে। আমার মেয়েকে ওরা মেরে ফেলেছে।”
স্বপ্নার বাবা হান্নান মোল্লাও একই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “আমার মেয়েকে হত্যা করে গলায় রশি বেঁধে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার চাই।”
ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন।
ঘটনার প্রাথমিক তথ্য নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিহতের নাম | স্বপ্না আক্তার (২১) |
| বাবার নাম | হান্নান মোল্লা |
| স্থায়ী ঠিকানা | ঠেঙ্গামারি গ্রাম, কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন, সদরপুর, ফরিদপুর |
| স্বামীর নাম | খায়ের মাতুব্বর (২৫) |
| স্বামীর বাড়ি | বাঁশাগারী গ্রাম, ডাঙ্গী ইউনিয়ন, নগরকান্দা |
| বিয়ের সময় | প্রায় ২৪ দিন আগে |
| মরদেহ উদ্ধারের তারিখ | ১৪ মার্চ |
| বর্তমান অবস্থা | ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো |
| সন্দেহভাজন অবস্থা | স্বামী পলাতক |
নগরকান্দা থানার ওসি রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের আশা, তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত সত্য উদঘাটিত হবে এবং যদি কোনো অপরাধ ঘটে থাকে, তবে তার যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা হবে।