খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 13শে আশ্বিন ১৪৩২ | ২৮ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নাটোরের বড়াইগ্রামে দাদির বিরুদ্ধে জুসের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাইয়ে দুই বছরের নাতিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার ইকড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে শিশুটি মারা যায়।
নিহত শিশুর নাম নুর ইসলাম (২)। সে গুরুদাসপুর উপজেলার সোনাবাজু পূর্বপাড়া গ্রামের শাকিল আহমেদ ও পায়েল খাতুন দম্পতির একমাত্র সন্তান। শিশুর মরদেহ মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
অভিযুক্ত দাদির নাম সখিনা বেগম (৪৫)। তিনি একই গ্রামের আব্দুর মোতালেবের স্ত্রী। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে জানালায় বেঁধে গণপিটুনি দেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে বড়াইগ্রামের রোলভা গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনের মেয়ে পায়েল খাতুনের সঙ্গে সোনাবাজু গ্রামের আব্দুর মোতালেবের ছেলে শাকিল হোসেনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি ও পুত্রবধূর মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। প্রায়ই শাশুড়ি সখিনা তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। সর্বশেষ তিন মাস আগে মারধরের ঘটনায় স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে আলাদা হয়ে যান শাকিল।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) শাকিল স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে ইকড়ি গ্রামের মামা শাহাদাত শাহের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেন। একই অনুষ্ঠানে শাশুড়ি সখিনাও উপস্থিত ছিলেন।
পুত্রবধূ পায়েলের অভিযোগ, শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিনি ছেলে নুর ইসলামকে ঘুম পাড়িয়ে বাইরে গেলে শাশুড়ি শিশুটিকে ঘুম থেকে তুলে জুস খাওয়ান। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়ে নুর ইসলাম। দ্রুত তাকে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক বিষক্রিয়ার কথা জানিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে সেখানে নেওয়ার আগেই শিশুটি মারা যায়।
পায়েলের দাবি, সংসার ভাঙার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শাশুড়ি ছেলের জুসে বিষ মিশিয়ে খাইয়েছেন।
তবে অভিযুক্ত সখিনা বেগম বলেন, জুসটি তার ছেলে কিনে এনেছে। তিনি নিজেও সেটি খেয়েছেন, নাতিকেও খাইয়েছেন এবং মেয়ের ঘরের নাতিকেও খাইয়েছেন। তাদের কিছু হয়নি। কীভাবে নাতি মারা গেল তা তিনি জানেন না। পারিবারিক বিরোধের কারণে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনাটিকে আপাতত অপমৃত্যু হিসেবে মামলা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। শিশুর মৃত্যুর আসল কারণ জানতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি। প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
খবরওয়ালা/টিএসএন