খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 3শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ১৬ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ন্যাশনাল অ্যান্টি ডোপিং এজেন্সি (নাডা) ২০২৬ সালের জন্য তাদের নিবন্ধিত টেস্টিং পুল (RTP) প্রকাশ করেছে। এই তালিকায় ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য—অলরাউন্ডার অক্ষর প্যাটেল এবং উদীয়মান ব্যাটার অভিষেক শর্মা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। অ্যাথলেটদের ডোপিংমুক্ত রাখতে এবং খেলার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নাডা নিয়মিত এই তালিকা হালনাগাদ করে থাকে।
নাডার নিয়ম অনুযায়ী, যে সকল খেলোয়াড় এই টেস্টিং পুলের অন্তর্ভুক্ত হন, তাদের সারা বছর একটি নির্দিষ্ট নিয়মাবলি মেনে চলতে হয়। একে বলা হয় ‘অয়্যারঅ্যাবাউটস’ (Whereabouts) তথ্য প্রদান। খেলোয়াড়দের প্রতিদিনের অবস্থান এবং প্রশিক্ষণের বিস্তারিত সময়সূচি আগেভাগেই নাডাকে জানাতে হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ডোপিং নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের (DCO) পক্ষে যেকোনো সময়, যেকোনো স্থানে গিয়ে বিনা নোটিশে খেলোয়াড়ের নমুনা সংগ্রহ করা।
যদি কোনো খেলোয়াড় তার দেওয়া ঠিকানায় উপস্থিত না থাকেন অথবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নমুনা দিতে ব্যর্থ হন, তবে সেটিকে ‘মিসড টেস্ট’ হিসেবে গণ্য করা হয়। ১২ মাসের মধ্যে তিনবার এমন তথ্যগত ভুল বা অনুপস্থিতি ঘটলে তা ডোপ বিরোধী নিয়ম লঙ্ঘনের শামিল বলে বিবেচিত হয় এবং সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়কে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হতে হয়।
২০২৬ সালের জন্য প্রকাশিত ৩৪৮ জন অ্যাথলেটের এই বিশাল তালিকায় অভিষেক শর্মা ও অক্ষর প্যাটেল নতুন যুক্ত হলেও, আগের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন টপ-অর্ডার ব্যাটার শ্রেয়াস আইয়ার এবং নারী দলের সহ-অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানা। তবে ভারতীয় ক্রিকেটের একঝাঁক তারকা এই তালিকায় নিজেদের অবস্থান বজায় রেখেছেন। নিচে ডোপ টেস্টের তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য ক্রিকেটারদের একটি তালিকা প্রদান করা হলো:
| বিভাগ | খেলোয়াড়দের নাম |
| পুরুষ ক্রিকেটার | শুবমান গিল, যশস্বী জয়সওয়াল, হার্দিক পান্ডিয়া, ঋষভ পন্ত, জাসপ্রিত বুমরাহ, লোকেশ রাহুল, অর্শদীপ সিং, তিলক ভার্মা, অক্ষর প্যাটেল, অভিষেক শর্মা। |
| নারী ক্রিকেটার | দীপ্তি শর্মা, শেফালি ভার্মা, রেণুকা সিং। |
ভারতে ক্রিকেটসহ অন্যান্য খেলার মানদণ্ড উন্নত করতে নাডা গত কয়েক বছর ধরে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে আইপিএল এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যস্ত সূচির মাঝে খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে অনেক সময় নিষিদ্ধ ড্রাগ বা স্টিমুলেটিং উপাদানের ব্যবহারের ঝুঁকি থাকে। সেই ঝুঁকি এড়াতেই নাডা এই কঠোর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু রেখেছে।
অভিষেক শর্মা ও অক্ষর প্যাটেলের অন্তর্ভুক্তি প্রমাণ করে যে, বর্তমান ক্রিকেটীয় প্রেক্ষাপটে তাদের গুরুত্ব এবং খেলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। অভিষেক শর্মা সম্প্রতি তার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের জন্য নজর কেড়েছেন, অন্যদিকে অক্ষর প্যাটেল তিন ফরম্যাটেই ভারতের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছেন।
নাডার এই তালিকায় অন্তর্ভুক্তি কোনো অপরাধ নয়, বরং এটি একজন উচ্চ-পর্যায়ের অ্যাথলেটের পেশাদার জীবনের অংশ। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারত যে সাফল্য পাচ্ছে, তা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং ডোপিংমুক্ত। ২০২৬ সালজুড়ে এই তালিকায় থাকা ক্রিকেটারদের কঠোর নজরদারিতে থাকতে হবে এবং নিয়মিত তাদের শারীরিক অবস্থার রিপোর্ট ও নমুনা প্রদান করতে হবে। এটি মূলত বিশ্ব ডোপ বিরোধী সংস্থা (WADA) এবং নাডার যৌথ সমন্বয়ে পরিচালিত একটি নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া।