খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সুমন খলিফা নামের এক যুবককে তার স্ত্রী সোনিয়ার সঙ্গে অন্য পুরুষের অবৈধ সম্পর্কের জের ধরে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মর্মান্তিক এ হত্যাকাণ্ডের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ ঘটনাটি উদ্ঘাটন করে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র।
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, সোনিয়া পেশায় সংগীতশিল্পী। তিনি বিভিন্ন গানের অনুষ্ঠান করতেন। এর মধ্যেই তার পরিচয় হয় মেহেদী ওরফে ইউসুফের সঙ্গে। সম্পর্ক গভীর হওয়া মাত্রই স্বামী সুমন বিষয়টি টের পান এবং তাদের মধ্যে নিয়মিত বিরোধ শুরু হয়।
সোনিয়া ও ইউসুফ মনে করেন, সুমন বেঁচে থাকলে তাদের সম্পর্ক প্রকাশ পাবে এবং সমস্যা বাড়তে থাকবে। তাই দু’জনে মিলে তাকে ঠান্ডা মাথায় হত্যার পরিকল্পনা করেন।
৩০ নভেম্বর রাতে সোনিয়া একটি সঙ্গীত অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সুমনকে বাইরে ডেকে এনে সহযোগীদের সঙ্গে পাঠিয়ে দেন তিনি। এরপর পরিকল্পনামতো সুমনকে সিএনজিতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় চর কাশীপুরের একটি নির্জন স্থানে। সেখানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
পুলিশ জানায়, এটি আকস্মিক নয়—বরং খুনের আগে আসামিরা কয়েকদিন ধরে পরিকল্পনা, জায়গা নির্বাচন, সময় নির্ধারণ এবং সহযোগীদের সমন্বয়ের কাজ করেছে।
সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, পারিবারিক অস্থিরতা ও সম্পর্কের প্রতি অনাস্থা যখন চরম পর্যায়ে পৌঁছে, তখন মৃত্যু পর্যন্ত পরিকল্পনা করা অনেকের কাছে ‘সমাধান’ মনে হতে পারে। এটি সামাজিক কাঠামোর জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রতিক সময়ে যেসব হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তার বেশিরভাগই পারিবারিক বিবাদ, পরকীয়া বা আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে। সুমনের মৃত্যুও সেই প্রবণতারই পুনরাবৃত্তি।
ঘটনার পরদিনই সুমনের বাবা মামলার বাদী হন। পুলিশের তদন্তে প্রথমেই মোবাইল কললিস্ট পরীক্ষা করা হয়। ইউসুফের অবস্থান শনাক্ত করার পর তাকে আটক করা হলে পুরো পরিকল্পনার রহস্য বেরিয়ে আসে।
গ্রেপ্তারকৃত ছয়জনের প্রত্যেকেই হত্যাকাণ্ডে কোনো না কোনোভাবে ভূমিকা রেখেছেন। কেউ প্রলোভন দেখিয়েছে, কেউ পরিবহন জোগাড় করেছে, কেউ অস্ত্র নিয়ে গেছে—সব মিলিয়ে এটি একটি ‘সংগঠিত হত্যাকাণ্ড’ বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সুমন খলিফার মৃত্যু শুধুমাত্র একটি বিবাহিত সম্পর্কের দ্বন্দ্ব নয়—এটি সমাজের ভেতরের একটি অন্ধকার বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। ভালোবাসা, প্রতিশ্রুতি, আস্থা—সবই ভেঙে গিয়ে যখন সম্পর্ক কেবল স্বার্থের জায়গায় পৌঁছে যায়, তখন হত্যার মতো ভয়াবহতার জন্ম হয়।