খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 1শে মাঘ ১৪৩২ | ১৪ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ডেনারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বার্ষিক ছুটির ভাতা প্রদানের দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে আহসান অ্যাপারেলস কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে মালিকপক্ষ। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকায় অবস্থিত এই কারখানায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
স্থানীয় শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে তারা বার্ষিক ছুটির ভাতা পরিশোধের জন্য দাবি জানাচ্ছিলেন। শ্রমিকরা বলছেন, ভাতা প্রদানের জন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ গত ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করেছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভাতা না পেয়ে শ্রমিকরা আন্দোলনে নামে।
কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ভেতরে কর্মপরিবেশ অনুপযুক্ত উল্লেখ করে একটি নোটিশ জারি করে। নোটিশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ থাকবে।
শিল্পাঞ্চল পুলিশ-৪, নারায়ণগঞ্জ জোনের ইন্টেলিজেন্স পরিদর্শক সেলিম বাদশা বলেন, “আন্দোলনের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং কারখানার আশপাশে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।”
স্থানীয় শ্রমিক নেতারা জানান, আন্দোলন মূলত বেতন ও ভাতা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের অনিয়মের কারণে উদ্ভূত। তাঁদের দাবি, শুধু ভাতা নয়, বরং কর্মপরিবেশ উন্নত করা এবং শ্রমিকদের আইনি অধিকার নিশ্চিত করাও জরুরি।
নিচের টেবিলে শ্রমিকদের মূল দাবি এবং কারখানার প্রতিক্রিয়া সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| বিষয় | শ্রমিকদের দাবি | কারখানার প্রতিক্রিয়া |
|---|---|---|
| বার্ষিক ছুটির ভাতা | সময়মতো পরিশোধ করা | নির্ধারিত সময় পেরিয়ে বন্ধ ঘোষণা |
| কর্মপরিবেশ | নিরাপদ ও সম্মানজনক কাজের পরিবেশ | অনুপযুক্ত পরিবেশ উল্লেখ |
| আন্দোলনের ধরন | শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ | নোটিশ জারি করে অনির্দিষ্ট বন্ধ |
| পুলিশ নজরদারি | – | অতিরিক্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন |
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ব্যবসায়ী নেতারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন, কারণ কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকায় সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন ঘটতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শ্রমিক এবং মালিকপক্ষের মধ্যে ত্বরিত সংলাপ এবং আইন অনুসারে সমাধান ছাড়া পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
এখনো পর্যন্ত শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনার সূচনা হয়নি। কারখানার ভবিষ্যৎ কার্যক্রম কবে থেকে পুনরায় শুরু হবে তা নিশ্চিত নয়। তবে স্থানীয় প্রশাসন এবং শ্রম অধিদপ্তর উভয়পক্ষকে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার জন্য তৎপর রয়েছে।