খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৭ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা ও টানা বৈরী আবহাওয়ার কারণে বোরো ধান সংগ্রহে কৃষকেরা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। একদিকে অকাল বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলের শঙ্কা, অন্যদিকে জমিতে থাকা আধাপাকা ধান দ্রুত কেটে নেওয়ার চাপ—এই দুই পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে কৃষকেরা বিপাকে রয়েছেন।
সুনামগঞ্জের পাগনার হাওরপারের লক্ষ্মীপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম (৫০) জানান, তাঁর ১০ বিঘা জমির মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র এক বিঘার ধান কাটা হয়েছে। বাকি জমির ধান কাটতে না পারায় তিনি অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। হাওরে পানি জমে থাকায় যন্ত্র চালানো যাচ্ছে না, আবার শ্রমিক সংকটও রয়েছে। ফলে ধান কাটা ও মাড়াই কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
সদর উপজেলার দেখার হাওরপারের আস্তমা গ্রামের আরেক কৃষক আল আমিন (৩১) জানিয়েছেন, বন্যার আশঙ্কায় তিনি তাঁর চার বিঘা জমির ধান আগেভাগেই কেটে ফেলেছেন। এর মধ্যে কিছু ধান আধাপাকা ছিল। তবে মাড়াই ও শুকানোর ব্যবস্থা না থাকায় সেগুলো নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দিনগুলোতে সুনামগঞ্জে থেমে থেমে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে এবং ২৮ এপ্রিল থেকে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উজানের ভারতের চেরাপুঞ্জি অঞ্চলে একই সময়ে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা থাকায় পাহাড়ি ঢল নেমে হাওর এলাকায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে।
জেলার হাওর পরিস্থিতি ও ফসলের বর্তমান অবস্থা সংক্ষেপে নিচে দেওয়া হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| মোট হাওর সংখ্যা | ১৩৭টি |
| মোট আবাদকৃত জমি | ২,২৩,৫১১ হেক্টর |
| এখন পর্যন্ত কাটা ধান | ৭৮,২২৮ হেক্টর |
| এখনো বাকি ধান | ১,৪৫,২৮২ হেক্টর |
| ক্ষতিগ্রস্ত জমি | ৫,০৫০ হেক্টর |
| ধান উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা | প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন |
| বার্ষিক চাল চাহিদা | প্রায় ৫.৫ লাখ মেট্রিক টন |
| উৎপাদন উদ্বৃত্ত | প্রায় ৬ লাখ মেট্রিক টন |
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এখনো হাওরের অর্ধেকের বেশি ধান জমিতেই রয়ে গেছে, যার একটি বড় অংশ এখনো পরিপক্ব হয়নি। চলমান বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে কম্বাইন্ড হারভেস্টার ব্যবহারে সমস্যা হচ্ছে এবং শ্রমিক সংকটও প্রকট আকার ধারণ করেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, হাওরের ফসল রক্ষায় ৬০২ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়েছে, যার জন্য প্রায় ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। তবে মাটির দুর্বলতা ও উজানের সম্ভাব্য প্রবল ঢলের কারণে এসব বাঁধের ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর কাজ ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত ধান কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, উজানের অতিবৃষ্টি ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে সুরমা, কুশিয়ারা, ধনু, বৌলাইসহ বিভিন্ন নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে, যা হাওরে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়াবে।