খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 3শে কার্তিক ১৪৩২ | ১৮ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মৃত্যুর পর মানুষ তাঁকে কতটা মনে রাখবে—এই কৌতূহল থেকেই নিজের শেষকৃত্যানুষ্ঠান আয়োজন করলেন ভারতের বিহার রাজ্যের গয়া জেলার গুরারু ব্লকের কোনচি গ্রামের বাসিন্দা ৭৪ বছর বয়সি মোহনলাল। বিমানবাহিনীর সাবেক এই কর্মকর্তা মৃত সেজে ফুল ও কাফনের কাপড়ে মোড়া খাটিয়ায় শুয়ে থাকেন, আর আশপাশের মানুষ শোকসংগীত বাজিয়ে তাকে শ্মশানঘাটে নিয়ে যান।
স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় পুরো আয়োজনটি করেন মোহনলাল। খবর ছড়িয়ে পড়তেই শত শত গ্রামবাসী ‘শবযাত্রায়’ অংশ নিতে সেখানে ভিড় করেন। শ্মশানঘাটে পৌঁছে চিতা জ্বালানোর মঞ্চে তুলতেই হঠাৎ উঠে বসেন মোহনলাল। উপস্থিত জনতা মুহূর্তেই হতবাক হয়ে যায়। পরে প্রতীকীভাবে একটি কাকতাড়ুয়া দাহ করা হয় এবং সবাইকে ভোজ খাওয়ানো হয়।
মোহনলাল বলেন, ‘মানুষ মৃত্যুর পর খাটিয়া কাঁধে তোলে, কিন্তু আমি চেয়েছি জীবিত অবস্থায় সেটা দেখতে—দেখতে চেয়েছি মানুষ আমাকে কতটা সম্মান ও ভালোবাসে।’
সামাজিক মাধ্যমে ঘটনাটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রামবাসীদের অনেকে মোহনলালের সমাজসেবামূলক কাজের প্রশংসা করেছেন। সম্প্রতি বর্ষায় চিতা জ্বালাতে গ্রামের মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে দেখে তিনি নিজ খরচে গ্রামের জন্য একটি শ্মশানঘাট নির্মাণ করেন।
মোহনলালের স্ত্রী জীবনজ্যোতি ১৪ বছর আগে মারা গেছেন। তাঁদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
এর আগেও ভারতে এমন এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছিল। গত বছর রাজস্থানের ঝুনঝুনু জেলায় এক মূক-বধির যুবককে চিকিৎসকরা ভুলবশত মৃত ঘোষণা করে মর্গে পাঠান। দুই ঘণ্টা বরফের মধ্যে থাকার পর চিতায় তোলার আগ মুহূর্তে সে নড়াচড়া শুরু করে সবাইকে বিস্মিত করে তোলে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে পরে বহিষ্কার করা হয়।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি