খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার ইসদাইর নতুন সংযোগ এলাকার সড়কে সোমবার রাত আটটার দিকে এক হৃদয়বিদারক হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত ব্যক্তি হলেন রায়হান মোল্লা (৪৫), যিনি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁয় বাবুর্চির কাজ করতেন।
নিহতের মেজ ছেলে সাব্বির মোল্লা জানান, প্রায় এক মাস আগে তার বাবা এবং এলাকার পরিচিত মাদক ব্যবসায়ী রাজ্জাকের মধ্যে মারামারি হয়েছিল। ওই সময় রাজ্জাক রায়হানের পায়ে ছুরিকাঘাত করে। এ ঘটনার পর থেকে সাব্বির তার বাবাকে ওই এলাকায় যেতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু সোমবার রাতে রায়হান ওই এলাকায় গেলে স্থানীয় দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। সাব্বিরের দাবি, হত্যাকাণ্ডে রাজ্জাকের কোনো না কোনো যোগ থাকতে পারে।
শহরের খানপুরে অবস্থিত ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “নিহতের শরীর ও মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণই মৃত্যুর মূল কারণ।”
ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক আবু রায়হান জানিয়েছেন, “নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আমরা হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছি।”
নিহত রায়হান মোল্লার পরিবার স্থানীয় কর্মসংস্থান এবং জীবিকা বিষয়ক তথ্যের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা নিচে উপস্থাপন করা হলো:
| নাম | বয়স | পেশা | পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের পেশা |
|---|---|---|---|
| রায়হান মোল্লা | ৪৫ | বাবুর্চি | তিন ছেলে গ্যারেজে কাজ করেন |
| সাব্বির মোল্লা | ২৮ | স্থানীয় ব্যবসা | – |
| বড় ছেলে | ৩২ | গ্যারেজে কাজ | – |
| ছোট ছেলে | ২৫ | গ্যারেজে কাজ | – |
স্থানীয়দের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করা হয়েছে। ফতুল্লার সাধারণ মানুষ বলেন, “এ ধরনের নৃশংস ঘটনা এলাকাটিকে আতঙ্কিত করেছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনা।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত এখনও চলমান। এ ঘটনায় স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ, সুত্র এবং সাক্ষীদের সাহায্যে হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ড স্থানীয়ভাবে আইনশৃঙ্খলা এবং জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে, যেখানে এলাকার বাসিন্দারা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের তৎপরতা কামনা করছেন।