খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার করাতকল শ্রমিক নজির আহমেদ (৪০) দুর্ঘটনায় তার ডান হাত কবজি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও সফল অস্ত্রোপচারের পর আবার সেটি জোড়া লাগানো সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাতে অনুভূতি পাচ্ছেন।
গত মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) গাছের গুঁড়ি নামানোর সময় নজিরের ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে তার সহকর্মী ও স্বজনরা বিচ্ছিন্ন হাতটি পলিথিনে ভরে তাকে নিয়ে প্রথমে কুমিল্লার ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। সেখান থেকে তাকে দ্রুত কুমিল্লা ট্রমা সেন্টারে পাঠানো হয়।
ওই রাতেই প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে জটিল অস্ত্রোপচার করে নজিরের হাতটি পুনরায় সংযোজন করেন চিকিৎসকরা। এই অস্ত্রোপচার দলের নেতৃত্বে ছিলেন ময়নামতি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. মো. কামরুল ইসলাম। তার সঙ্গে ছিলেন চিকিৎসক আরিফুর রহমান, রহমত উল্লাহ ও এনামুল হক।
ডা. কামরুল ইসলাম জানান, দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোর কারণেই হাতটি জোড়া লাগানো সম্ভব হয়েছে। এটি কুমিল্লার চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটি বড় সাফল্য, যা সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সহজ করবে এবং খরচও কমাবে।
চিকিৎসকরা নজিরের হাতের নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছেন। বর্তমানে তিনি বেডে শুয়ে আছেন এবং জোড়া লাগানো হাতে স্পর্শ করলে অনুভূতি পাচ্ছেন।
নজির আহমেদ, যিনি দৈনিক ৭০০ টাকা মজুরিতে কাজ করে তিন সন্তানের সংসার চালান, তিনি দুর্ঘটনার পর চিকিৎসার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। তবে কুমিল্লা ট্রমা সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক মো. আবদুল হক তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, চিকিৎসার পর অর্থের বিষয়টি দেখা যাবে।
খবরওয়ালা/টিএসএন