খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 9শে মাঘ ১৪৩২ | ২২ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ঢাকার সিআইডি ফেসবুকের মাধ্যমে বয়স্ক ব্যক্তিদের প্রতারণা করে প্রায় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মনিরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। তদন্তে জানা গেছে, মনিরুল ইসলাম ফেসবুকের বিভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে ভিকটিমদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে টাকা হাতিয়ে নিতেন। তার বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বৃহস্পতিবার জানান, “মনিরুল ইসলাম ফেসবুকে বয়স্ক ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাতেন। বিশ্বাস অর্জনের জন্য তিনি ডাক্তার, কলেজ অধ্যক্ষ বা এমনকি প্রধানমন্ত্রীর পিএস পরিচয়েও ভিকটিমদের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন করতেন। ফোনে নারী কণ্ঠ নকল করে বাবা-মায়ের অসুস্থতার কথা বলে সহানুভূতি আদায় করতেন। এক পর্যায়ে ধার হিসেবে টাকা নিলে, তা পাওয়ার পরপরই মোবাইল বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যেতেন।”
তদন্তে দেখা গেছে, মনিরুল ইসলাম নিজের ব্যাংক হিসাব ছাড়াও অন্য ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বিকাশের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। আত্মসাৎকৃত অর্থে তিনি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে স্থাবর সম্পত্তি ক্রয় করেছেন।
নিম্নে তার ক্রয়কৃত সম্পত্তির বিবরণ:
| ক্রয়কৃত সম্পত্তি | অবস্থান | আয়তন/জমির পরিমাণ | দলিল মূল্য |
|---|---|---|---|
| জমি | আমুলিয়া মডেল টাউন, ডেমরা | ৭.৫ শতাংশ | ৯,৩৩০০০ টাকা |
| ফ্ল্যাট | দারুসসালাম | ২,১৫০ বর্গফুট | ৪২,২৫০০০ টাকা |
২০২৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বাড্ডা থানায় সিআইডি তার বিরুদ্ধে মামলা (নং-১৭) দায়ের করে। মামলায় উল্লেখিত সুনির্দিষ্ট অভিযোগ অনুযায়ী, ফেসবুকে প্রতারণার মাধ্যমে মনিরুল ইসলাম ২৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন।
যেহেতু তদন্তে পাওয়া তথ্য প্রমাণ করেছে যে তিনি অবৈধ অর্থে সম্পদ ক্রয় করেছেন, জেষ্ঠ্য বিশেষ জজ, ঢাকা মহানগর দায়রা আদালতের আদেশে তার সম্পত্তি রাষ্ট্রীয় অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের মাধ্যমে তদন্তাধীন।
সিআইডি কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, “ফেসবুক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনিচ্ছাকৃতভাবে অন্যের সহানুভূতি বা বিশ্বাস দখল করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার মতো প্রতারণা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনসাধারণকে সচেতন থাকা জরুরি।”