খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 15শে চৈত্র ১৪৩২ | ২৯ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশের প্রখ্যাত নারী ক্রিকেট আম্পায়ার সথিরা জাকির জেসি আগামী নারী টি২০ বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি গত বছর ভারতের নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং এবার ১২ জুন ইংল্যান্ডে শুরু হতে যাওয়া টুর্নামেন্টে আন্তর্জাতিক মাঠে তার অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হবে। এই বিশ্বকাপে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় নারী ক্রিকেট দলগুলো অংশগ্রহণ করবে।
বিসিবির উম্পায়ার বিভাগের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, “জাতীয় দলের পাশাপাশি একজন আম্পায়ারের আন্তর্জাতিক স্তরে অংশগ্রহণ আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। জেসি বড় আসরে দায়িত্ব পালন করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এবং তার দক্ষতা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা আশা করি তিনি টি২০ বিশ্বকাপে আরও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।”
জেসি একজন আইসিসি স্বীকৃত আন্তর্জাতিক আম্পায়ার। ২০২৫ সালের নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে তিনি মোট আটটি ম্যাচ পরিচালনা করেছিলেন। এর মধ্যে চারটি অন-ফিল্ড, দুটি টেলিভিশন আম্পায়ার এবং দুটি চতুর্থ আম্পায়ারের দায়িত্বে ছিল। এই টি২০ বিশ্বকাপে তিনি আরও অন-ফিল্ড অভিজ্ঞতা অর্জন এবং আন্তর্জাতিক পরিচিতি আরও দৃঢ় করার পরিকল্পনা করছেন।
জেসি বলেন, “বিশ্বকাপে দায়িত্ব নেওয়া আমার জন্য গর্বের। ধারাবাহিকভাবে দুটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সম্মানের বিষয়। ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে অন্যান্য নারী আম্পায়ারদেরও সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। আইসিসি নারী এলিট উম্পায়ার প্যানেল গঠনের পরিকল্পনা করছে, আর এই ধরনের টুর্নামেন্টে ভালো করলে আমি সেই প্যানেলের জন্য যোগ্য হতে পারি।”
টুর্নামেন্টে দুইটি গ্রুপে ছয়টি করে দল অংশগ্রহণ করবে:
| গ্রুপ এ | গ্রুপ বি |
|---|---|
| বাংলাদেশ | ওয়েস্ট ইন্ডিজ |
| ভারত | ইংল্যান্ড |
| পাকিস্তান | নিউজিল্যান্ড |
| অস্ট্রেলিয়া | শ্রীলঙ্কা |
| দক্ষিণ আফ্রিকা | আয়ারল্যান্ড |
| নেদারল্যান্ডস | স্কটল্যান্ড |
গ্রুপ এ-তে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নেদারল্যান্ডস প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। গ্রুপ বি-তে থাকবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, আয়ারল্যান্ড এবং স্কটল্যান্ড।
জেসির মনোনয়ন বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে। এটি দেখায় যে নারী ক্রিকেটের খেলোয়াড়রা কেবল মাঠেই নয়, প্রশাসনিক ও আন্তর্জাতিক দায়িত্বেও নেতৃত্ব দিতে পারে। তার অংশগ্রহণ স্থানীয় যুবক ও যুবতী আম্পায়ারদের জন্য নতুন উদ্দীপনার উৎস হবে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নারীর অবদান আরও দৃঢ় করবে।
বিশ্বকাপে জেসির দায়িত্ব এবং তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা কঠিন পরিস্থিতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্স বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেটের মান উন্নয়নে অবদান রাখবে।
এইভাবে, জেসির বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হবে। আগামী বছরগুলোতে আরও নারী আন্তর্জাতিক ম্যাচে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবে, যা নারী ক্রিকেটের বিকাশ ও উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।