খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 23শে ভাদ্র ১৪৩২ | ৭ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার এসএস মৎস্য ফার্ম যেন এক ভিন্ন জগৎ। এখানকার বিশেষত্ব হলো—মাছ ধরতে জেলেদের মাথায় পরতে হয় হেলমেট। জেলেদের ভাষ্য, জালে ধরা পড়ার পর বড় বড় মাছ লাফিয়ে ওঠে এবং আঘাতের ঝুঁকি তৈরি করে। দুর্ঘটনা এড়াতেই নেওয়া হয়েছে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
দুর্গাপুর উপজেলার যুগিশো গ্রামে অবস্থিত এসএস মৎস্য ফার্মের মালিক গোলাম সাকলায়েন। তার প্রায় ৫ হাজার বিঘা জমির ওপর রয়েছে ১৮০টি পুকুর। এখান থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫ হাজার কেজি রুই, কাতলা, মৃগেলসহ বিভিন্ন জাতের মাছ বাজারজাত করা হয়। খামারের প্রতিটি মাছের গড় ওজন ৫ থেকে ১৫ কেজি। স্থানীয় বাজার ছাড়াও ঢাকাসহ চট্টগ্রাম ও সিলেটের বাজারে মাছ পাঠানো হয়।
প্রতিদিন প্রায় ১৬ লাখ টাকার মাছ বিক্রি হয়ে থাকে এই খামার থেকে। খামারের বিভিন্ন সেক্টরে কর্মরত রয়েছেন ১২০ জন শ্রমিক।
খামারের ম্যানেজার আফজাল হোসেন জানান, ‘আমাদের ব্যবসার বয়স প্রায় ৩০ বছর। আগে ছোট মাছ চাষ করতাম। গত ৩ বছর ধরে বড় মাছ চাষ করছি। বড় মাছ ধরার সময় অনেক কর্মী চোখে-মুখে ও মাথায় আঘাত পেয়েছে। কারও দাঁতও ভেঙেছে। তাই নিরাপত্তার জন্য আমরা হেলমেট ব্যবহার শুরু করি।’
জেলে রহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আগে হেলমেট পরতাম না। মাছের আঘাতে আমার একটি দাঁত ভেঙে গেছে। এরপর মালিক আমাদের হেলমেট কিনে দিয়েছেন। এখন মাছ ধরার কাজে আমরা নিয়মিত হেলমেট ব্যবহার করি।’
অন্য জেলে রাব্বি জানান, ‘মাছ ধরার সময় কখন কী ঘটে বলা যায় না। মাছগুলো এত বড় ও শক্তিশালী যে জালে ধরার সময় লাফিয়ে আঘাত করে। তাই আমরা হেলমেট ব্যবহার করি।’
ফার্মের মালিক গোলাম সাকলায়েন বলেন, ‘আমি নিজেও একসময় মাছ ধরতাম। প্রায় ২০ বছর আগে একটি রুই মাছ আমার নাকে আঘাত করলে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। তখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়েছিল। কিছুদিন আগে আমার এক কর্মচারী মাছ ধরতে গিয়ে বুকে আঘাত পেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এরপর কর্মীদের সুরক্ষার কথা ভেবে আমরা হেলমেট ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করি।’
সাকলায়েন আরও বলেন, ‘আমাদের খামারের মাছ বিদেশে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হলে দেশীয় অর্থনীতিতেও বড় অবদান রাখা সম্ভব হবে।’
খবরওয়ালা/শরিফ