খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ২৮ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) কোচিং সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি কোচদের আধিপত্য দেখা যায়। কিন্তু সেই প্রচলিত পথ থেকে বেরিয়ে এসে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স নিল ভিন্ন সিদ্ধান্ত—এই প্রথমবার তারা পুরো কোচিং ব্যবস্থাটিই তুলে দিলেন দেশি অভিজ্ঞদের হাতে। আর সেই পথচলার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন জাতীয় দলের সাবেক ওপেনার হান্নান সরকার, যিনি এবার দায়িত্ব পেলেন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের প্রধান কোচ হিসেবে।
দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, হান্নান সরকারের সঙ্গে সিনিয়র সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করবেন আরেক সাবেক জাতীয় তারকা রাজিন সালেহ। বিসিবির এইচপি ইউনিটে ব্যাটিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রাজিন আগেই বিপিএলে কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। ফলে দুজনের সমন্বয় রাজশাহীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।
হান্নান সরকারের খেলোয়াড়ি জীবন খুব দীর্ঘ না হলেও তাঁর দৃঢ়তা, টেকনিক এবং পরিশ্রমের মনোভাব তাঁকে দ্রুতই কোচিংয়ে জায়গা করে নিতে সাহায্য করেছে। ১৭ টেস্ট ও ২০ ওয়ানডে খেলা এই ওপেনার ২০১০ সালে বিসিবির লেভেল–ওয়ান কোচিং সার্টিফিকেট অর্জন করেন এবং পরে লেভেল–টু কোর্স শেষ করেন। বিপিএলের প্রথম দুই আসরে দুরন্ত রাজশাহীর সহকারী কোচ হিসেবে তাঁর কাজ দলটির জন্য ছিল অত্যন্ত মূল্যবান। সেই অভিজ্ঞতাই এবার তাঁকে এনে দিলো প্রধান কোচের আসনে বসার সুযোগ।
রাজিন সালেহ, যাকে ক্রিকেটমহল চেনে তাঁর শান্ত স্বভাব, ডিফেন্সিভ দক্ষতা এবং দারুণ ক্রিকেট মস্তিষ্কের জন্য, বর্তমানে বিসিবির উচ্চ পারফরম্যান্স ইউনিটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তরুণ ব্যাটারদের উন্নতিতে তাঁর ভূমিকা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত। বিপিএলে পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায় তিনি জানেন কিভাবে বড় মঞ্চে দল পরিচালনা করতে হয়।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স শুধু কোচিং সেটআপেই নয়, স্কোয়াড গঠনে বড় চমক দিয়েছে। সরাসরি চুক্তিতে দলে যোগ দিয়েছেন জাতীয় দলের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ২০১৬ সাল থেকে নিয়মিত বিপিএল খেললেও এবারই প্রথম তিনি প্রতিনিধিত্ব করবেন তাঁর নিজ শহর রাজশাহী। এতে দলের প্রতি তাঁর আবেগ, দায়বদ্ধতা ও নেতৃত্ব—তিনটিই অতিরিক্ত সুবিধা এনে দেবে বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।
রাজশাহী প্রথমবারের মতো বিপিএলে অংশ নিচ্ছে না, তবে নতুন মালিকানা ও নতুন পরিকল্পনায় দলটি এবার সম্পূর্ণ নতুনভাবে নিজেদের সাজাতে চাচ্ছে। দেশি কোচিং সেটআপ, অভিজ্ঞ ব্যাটার শান্তকে দলে যুক্ত করা, নতুন করে স্কাউটিং এবং স্থানীয় ক্রিকেট প্রতিভা খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্ব—সব মিলিয়ে রাজশাহীর পরিকল্পনায় যে পেশাদারিত্ব রয়েছে, তা স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে।
ক্রিকেটমহলে একটাই প্রশ্ন—হান্নান সরকার কি এই দলকে বদলে দিতে পারবেন? অনেকেই মনে করছেন, বিদেশি কোচদের তুলনায় দেশি কোচদের স্থানীয় ক্রিকেটারদের মানসিকতা বোঝা সহজ, যা বিপিএলের মতো টুর্নামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাছাড়া হান্নান–রাজিনের যুগলবন্দি দলটির ড্রেসিংরুমে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করবে বলেও আশা করা হচ্ছে।
রাজশাহীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “আমরা আমাদের নিজেদের প্রতিভায় বিশ্বাস করতে চাই। দেশি কোচদের ওপর আস্থা রেখে এবারের বিপিএলে নতুন চমক দেখানোর লক্ষ্য আমাদের।”
সব মিলিয়ে, অভিজ্ঞ দেশি কোচদের হাতে রাজশাহীর দায়িত্ব তুলে দিয়ে বিপিএল ২০২৬-এ বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল দলটি।