খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬
দেশের ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, এই ভাইরাস অত্যন্ত মারাত্মক এবং শীতকালে এর প্রকোপ বাড়ে। গত বছর (২০২৫) নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। সকল রোগীর শরীরে সংক্রমণ নিশ্চিতভাবে ধরা পড়েছিল। সর্বশেষ একজন রোগী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ২০২৪ সালে দেশে নিপাহ ভাইরাসে পাঁচজনের মৃত্যু ঘটে, যা সাম্প্রতিক বছরের তুলনায় সামান্য বেশি। আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ঠিক একই বছর পাঁচজন ছিল।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) আইইডিসিআরের মিলনায়তনে ‘নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার ও ঝুঁকি’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আইইডিসিআরের পরিচালক তাহমিনা শিরীন।
আইইডিসিআরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা জানান, নিপাহ ভাইরাস মূলত শীতকালে সক্রিয় হয় এবং এটি মারাত্মক রোগ সৃষ্টিকারী। আক্রান্ত রোগীর প্রায় ৭২ শতাংশের মৃত্যু হয়। সাধারণত কাঁচা খেজুরের রস পান করার মাধ্যমে মানুষ সংক্রমিত হয়। এছাড়া প্রায় ২৮ শতাংশ ক্ষেত্রে একজন থেকে অন্যজনের মধ্যে ভাইরাস ছড়ায়। তিনি আরও বলেন, নিপাহ ভাইরাসের জন্য এখনও কার্যকর কোনো চিকিৎসা বা টিকা আবিষ্কৃত হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
আইইডিসিআরের সংক্রামক রোগ বিভাগের সহযোগী বিজ্ঞানী ও নিপাহ ভাইরাস জরিপ সমন্বয়কারী ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার বলেন, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৫ জেলায় ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। সংক্রমণ ও মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে বেশি যেসব জেলা—ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাট। তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
সভায় নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতার গুরুত্বও বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, গণমাধ্যমের সহযোগিতা ছাড়া জনগণকে ভাইরাসের ঝুঁকি সম্পর্কে জানানো কঠিন। বিশেষ করে কাঁচা খেজুরের রস এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়:
| করণীয় | বিস্তারিত নির্দেশনা |
|---|---|
| কাঁচা খেজুরের রস এড়িয়ে চলা | ভাইরাস মূলত কাঁচা খেজুর থেকে ছড়ায় |
| ক্ষত বা পোকা কাটা ফল এড়িয়ে চলা | সংক্রমণ প্রতিরোধে নিরাপদ খাবার খাওয়া |
| ফলমূল পরিষ্কার করা | ভালোভাবে ধুয়ে খেতে হবে |
| লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসা | নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে দ্রুত যাওয়া |
| আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে সাবধান | হাত সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে ধোয়া |
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নাজমুল হোসেন।
আইইডিসিআর এবং স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ দেশবাসীকে সতর্ক করে বলেছেন, জনসচেতনতা ও নিরাপদ খাদ্যাভ্যাসই একমাত্র প্রতিরোধ। তাই শীতকালে কাঁচা খেজুরের রস এড়িয়ে চলা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অপরিহার্য।