খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ার অপেক্ষায় দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ এখন তেজোদীপ্ত। রাজনৈতিক দলগুলো ইতিমধ্যেই তাদের ইশতেহারের মাধ্যমে জনগণের সামনে তুলে ধরছে, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কেমন হবে তার রূপরেখা। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দেশের সুপরিচিত ব্যান্ড “মাইলস”-এর প্রধান সংগীতশিল্পী হামিন আহমেদ সাধারণ জনগণ ও সংগীতপ্রেমীদের পক্ষ থেকে জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে যাচ্ছে তাদের সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিকল্পনা কী। হামিন স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো রাজনৈতিক দল যদি সংগীত ও সংস্কৃতিকে ইশতেহারে যথাযথ গুরুত্ব না দেয়, তাহলে তিনি সেই দলকে ভোট দেবেন না।
গতকাল ফেসবুকে প্রকাশিত এক পোস্টে হামিন লিখেছেন, “জাতীয় নির্বাচন আর কিছুদিনের মধ্যে। সংগীতশিল্পী, স্রষ্টা এবং সংগীতপ্রেমীরা জানতে চায়—ভবিষ্যতের বাংলাদেশে আপনার সাংস্কৃতিক ও সংগীতভিত্তিক ইশতেহার কী? আমাদের দেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে কোনো রাজনৈতিক দল কখনোই সংগীত ও সংস্কৃতির ওপর স্পষ্ট পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি। অন্য সব বিষয়ে ইশতেহার থাকলেও সংগীতের বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি নেই। আমরা জানতে চাই—সংগীত নিয়ে আপনার কৌশল কী।”
হামিন তার পোস্টে দেশের সংগীতভিত্তিক জনগোষ্ঠীর পরিসংখ্যানও তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে প্রায় ২৮.৪০ শতাংশ মানুষ রেডিও, পডকাস্ট ও অন্যান্য মাধ্যমে গান শোনেন। এআই-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালে এই সংখ্যা প্রায় ৫১.৯১ মিলিয়ন হবে, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশের সমান। হামিন বলেন, “এই বিপুল সংখ্যক মানুষ যদি ঘোষণা করে যে তারা সংগীতবিরোধী কোনো দলকে ভোট দেবেন না, তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোকে এই শক্তি বুঝতে হবে এবং তার যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।”
হামিনের এই পোস্ট ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়ে দেশের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের অনেক সংগীতশিল্পী, গীতিকার, সুরকার, ব্যান্ড সদস্য ও সংগীতপ্রেমী পোস্টটি শেয়ার করে সমর্থন জানিয়েছেন।
আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে সহশিল্পীদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। লক্ষ্য করেছি, রাজনৈতিক ইশতেহারে সবকিছু আলাদা হলেও মিউজিক ও আর্ট কালচার বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই। অথচ কোনো অনুষ্ঠানে গান বা বাজনা থাকে না—তাহলে মিউজিশিয়ানদের বারবার ‘সাফার’ করতে হয়। এখনই আমরা জানতে চাই, যে দলগুলো নির্বাচনে যাচ্ছে, তাদের আর্ট ও সংস্কৃতি নিয়ে স্ট্র্যাটেজি কী।”
হামিন সতর্ক করে বলেন, “বর্তমান সময়ে দেশে সংগীত-সংস্কৃতির ওপর অনেক চক্রান্তমূলক ও বিভ্রান্তিকর ঘটনা ঘটছে। শো বাতিল হচ্ছে, কখনো কখনো গান-বাজনা বন্ধ করতে বলা হচ্ছে। আমরা কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করি না, তবে স্পষ্ট জানতে চাই—নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলো আমাদের সাংস্কৃতিক অধিকার কিভাবে রক্ষা ও এগিয়ে নেবে।”