খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 13শে পৌষ ১৪৩২ | ২৭ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পুলিশের লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র এবং আন্ডারওয়ার্ল্ডের অস্ত্র মজুত—দুয়েই নির্বাচনকে অস্থিতিশীল করার বড় ঝুঁকি। ২০২৩ সালের জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত পুলিশের লুট হওয়া বিপুল অস্ত্রের উল্লেখযোগ্য অংশ উদ্ধার না হওয়ায় উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে। এক বছর পর ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট কর্তৃপক্ষ পুরস্কার ঘোষণা করলেও ফল আশানুরূপ হয়নি। ফলে দেশে অবৈধ অস্ত্রের প্রবাহ বাড়ছে, যা নির্বাচনের সময় সহিংসতা, সন্ত্রাসী তৎপরতা ও রাজনৈতিক ভয়-ভীতি প্রদর্শনের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
সম্প্রতি একাধিক হত্যাকাণ্ড আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নড়েচড়ে বসিয়েছে। ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে সম্ভাব্য সংসদ প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা এবং ২২ ডিসেম্বর খুলনায় দলীয় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে এনসিপি নেতা মোতালেব শিকদারের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা এসব অস্ত্রের সক্রিয় ব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়। গত ১৪ মাসে যশোর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, কুমিল্লা, পাবনা, বগুড়াসহ অন্তত ২০ জেলায় অবৈধ অস্ত্রের গুলিতে পাঁচ শতাধিক হত্যাকাণ্ড নথিভুক্ত হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, “লুট হওয়া অস্ত্র অপরাধীদের হাতে চলে গেলে তা ভাড়া দেওয়া থেকে শুরু করে রাজনৈতিক সহিংসতা—সব ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হতে পারে। নির্বাচনের আগে এটি গুরুতর হুমকি।”
পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, পুরস্কার ঘোষণা করা হলেও নভেম্বর পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে মাত্র ৩৫টি অস্ত্র ও ১৯০ রাউন্ড গুলি। এখনো নিখোঁজ রয়ে গেছে ১,৩৪০টি অস্ত্র এবং ২,৫৭,৬৫৯ রাউন্ডেরও বেশি গুলি। বিভিন্ন ক্যালিবারের পিস্তল, রাইফেল, এসএমজি, এলএমজি, শটগান, টিয়ারগ্যাস লঞ্চারসহ এসব অস্ত্র দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে বলে শঙ্কা রয়েছে। অনেক অস্ত্র হাতবদল হয়ে আন্ডারওয়ার্ল্ডের দখলে গেছে, কিছু আবার জলাশয়ে নিক্ষেপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
| সূচক | সংখ্যা |
|---|---|
| মোট লুট হওয়া অস্ত্র | ১,৩৭৫ |
| উদ্ধারকৃত অস্ত্র | ৩৫ |
| নিখোঁজ অস্ত্র | ১,৩৪০ |
| মোট লুট হওয়া গুলি | ২,৫৭,৮৪৯ |
| উদ্ধার গুলি | ১৯০ |
| নিখোঁজ গুলি | ২,৫৭,৬৫৯+ |
নির্বাচনের আগে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান স্থগিত করা হলেও ঢাকা জেলা প্রশাসন আগস্টের পর ৪৫টি নতুন লাইসেন্স দেয়। ২০০৯-২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রায় ১৭,২০০টি লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে নির্দেশনা অনুযায়ী জমা পড়েছে ১৩,৩৪০টি। এখনো জমা হয়নি ৩,৮৬০টি অস্ত্র, যা পরবর্তীতে অবৈধ ঘোষিত হয়। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১,১৭৭টি অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করেছে, যার বড় অংশ রাজধানী কেন্দ্রিক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যত দিন লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হয়, আন্ডারওয়ার্ল্ড ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীর হাতে এগুলোর ব্যবহার নির্বাচনকালীন পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ অভিযান বাড়ালেও সম্পূর্ণ উদ্ধার এখনও কঠিন চ্যালেঞ্জ। দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দ্রুত অস্ত্র অনুসন্ধান, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং অবৈধ অস্ত্র দমনে সমন্বিত কঠোর ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি।