খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 28শে মাঘ ১৪৩২ | ১০ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণার শেষ দিনেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সহিংসতা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বরগুনা, কুমিল্লা এবং গাজীপুরসহ বেশ কিছু এলাকায় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে হামলা ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। নির্বাচনের আগমুহূর্তে এই ধরনের সহিংসতা সাধারণ ভোটারদের মনে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে বিস্তারিত প্রতিবেদনটি নিচে তুলে ধরা হলো।
বরগুনা-২ (বেতাগী-পাথরঘাটা-বামনা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার হিরু গতকাল বিকেলে এক ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছেন। পাথরঘাটা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাসভবনের সামনে ৩-৪ জন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র ও লোহার পাইপ নিয়ে তার ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। হামলাকারীরা তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গোলাম সরোয়ার হিরু যখন বাজারের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন, তখনই ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সেই মুহূর্তে জামায়াতে ইসলামীর একটি মিছিল ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় নেতা-কর্মীরা তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন। খবর পেয়ে নৌবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
কুমিল্লার দেবিদ্বারে এনসিপি প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর সমর্থকদের সঙ্গে বিএনপি সমর্থিত গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিনের কর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। গত রবিবার রাতে উপজেলার সুবিল ইউনিয়নের ওয়াহেদপুর দক্ষিণ বাজারে এই ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—মো. গোলাম হাক্কানি (৪৩), সুমন (৩০) ও সুজন (২০)। তারা তিনজনই বিএনপি সমর্থক এবং ট্রাক প্রতীকের হয়ে অটোরিকশায় মাইকিং প্রচারণার কাজ করছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, এনসিপির সমর্থকরা লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায় এবং প্রচার কাজে ব্যবহৃত অটোরিকশাটিও ভাঙচুর করে।
নির্বাচনি সহিংসতার সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
| স্থান | প্রধান ভুক্তভোগী/পক্ষ | ঘটনার ধরণ | আহতের সংখ্যা |
| বরগুনা | গোলাম সরোয়ার হিরু (সাবেক এমপি) | ধারালো অস্ত্র দিয়ে সশস্ত্র হামলা | ০১ জন (গুরুতর) |
| কুমিল্লা | বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদ কর্মী | প্রচার মিছিলে অতর্কিত হামলা | ০৩ জন |
| টঙ্গী | বিএনপি সমর্থিত দুই পক্ষ | অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সংঘর্ষ | ১০ জন |
| লালমনিরহাট | শিহাব আহম্মেদ (স্বতন্ত্র প্রার্থী) | গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুর | নির্দিষ্ট নয় |
গাজীপুরের টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকায় ধানের শীষের প্রার্থী এম মঞ্জুরুল করিম রনির নির্বাচনি মিছিলে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে বড় ধরনের সংঘর্ষ হয়েছে। মিছিল শুরুর প্রাক্কালে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বিএনপি নেতা সুমন সরকার ও কিরণের সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শিহাব আহম্মেদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রচারণার শেষ মুহূর্তে একদল দুর্বৃত্ত তার বহর লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে, এতে প্রার্থীর ব্যক্তিগত গাড়িসহ বেশ কিছু যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসন এসব প্রতিটি ঘটনার তদন্ত এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে কঠোর অবস্থানে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সকল পক্ষকে ধৈর্য ধারণ এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তের এই রক্তপাত সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।