খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি ঘোষণা দিয়েছেন, গত সপ্তাহে জেন-জি বিক্ষোভ চলাকালে সংঘটিত অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের মতো ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা কোনোভাবেই দোষীদের ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এসব সহিংসতা দেশের বিরুদ্ধে এক ধরনের অপরাধমূলক কাজ, যার তদন্ত করে কঠোর বিচার নিশ্চিত করবে সরকার।
রবিবার রাজধানী কাঠমান্ডুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী কার্কি বলেন, “রাষ্ট্রীয় স্থাপনা, সংসদ ভবন, সুপ্রিম কোর্ট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তিগত সম্পত্তি ধ্বংসের যে ঘটনা ঘটেছে, তার দায় কেউ এড়িয়ে যেতে পারবে না। দেশের জনগণ নিরাপত্তা চায়, শান্তি চায় । আমরা সেই শান্তি ফিরিয়ে আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
তিনি আরও জানান, সহিংসতায় হতাহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোরভাবে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এটিই সুশীলা কার্কির প্রথম বড় ঘোষণা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সরকারের রোডম্যাপ স্পষ্ট। প্রথমত সহিংসতার শিকার মানুষদের পাশে দাঁড়ানো, দ্বিতীয়ত আইন-শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং তৃতীয়ত সময়মতো নির্বাচন আয়োজন।”
আগামী ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি। কার্কি বলেন, “নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তবে তার আগে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে যারা যুক্ত, তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।”
সরকারি এই ঘোষণা নেপালের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, জেন-জি প্রজন্মের নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলন দেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, তবে সহিংসতায় রূপ নেওয়ায় সরকার এখন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
খবরওয়ালা/আশ