খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 11শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২৩ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নেপালের ধাদিং জেলায় ভয়ঙ্কর বাস দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন ২৪ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিকও রয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৫ জন, যাদের মধ্যে একজন চীনা এবং একজন নিউজিল্যান্ডের নাগরিক রয়েছেন।
ঘটনাটি সোমবার ভোরে ঘটেছে। রাজধানী কাঠমান্ডুতে যাওয়ার পথে পোখরা থেকে আসা একটি পর্যটকবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাদিং জেলার ত্রিশুলি নদীর তীরে ২০০ মিটার নিচে পড়ে যায়। পুলিশ মুখপাত্র অবিনারায়ণ কাফলে জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলেই ১৭ জনের মৃত্যু হয়, এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুইজনের মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত নিহতদের মধ্যে নয়জনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। আহতদের দ্রুত কাঠমান্ডুর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসা চলছে। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে।
নেপালে সড়ক দুর্ঘটনা তুলনামূলকভাবে সাধারণ, বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চলে। সরু পথ, দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ দুর্গম এলাকা প্রায়শই বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ২০২৪ সালে পোখরা থেকে কাঠমান্ডু যাওয়ার পথে তানাহুন জেলার মার্স্যাংদি নদীতে একটি বাস পড়ে কমপক্ষে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
নিচের টেবিলটি দুর্ঘটনায় নিহত এবং আহতদের সংক্ষিপ্ত তথ্য দেখাচ্ছে:
| ঘটনা বিষয়বস্তু | সংখ্যা/বিবরণ |
|---|---|
| মোট আরোহী | ৪৪ জন (চালকসহ) |
| নিহত | ১৯ জন |
| নিহতদের মধ্যে ব্রিটিশ নাগরিক | ১ জন (২৪ বছর বয়সী) |
| আহত | ২৫ জন |
| আহতদের মধ্যে চীনা নাগরিক | ১ জন |
| আহতদের মধ্যে নিউজিল্যান্ড নাগরিক | ১ জন |
| দুর্ঘটনার স্থান | ধাদিং জেলা, ত্রিশুলি নদীর তীরে |
| বাসের প্রাথমিক যাত্রাপথ | পোখরা → কাঠমান্ডু |
| দূর্ঘটনার দূরত্ব নদী থেকে | ২০০ মিটার |
নেপাল সরকার এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখন এই দুর্ঘটনার কারণ তদন্তে নিয়োজিত। নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনা এবং পর্যটকবাহী গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা এই ধরনের ঘটনায় আবারও সামনে এসেছে।
এই দুর্ঘটনা নেপালের পর্যটন অঞ্চলে সড়ক নিরাপত্তার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পাহাড়ি এলাকা এবং সরু রাস্তার সঙ্গে অভিজ্ঞ চালকের অভাব দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়ায়।
এতে স্পষ্ট যে, নেপালের পর্যটকবাহী রুটগুলোতে যথাযথ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ এবং জরুরি প্রটোকল বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুঃখজনক ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।