খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫
নেপাল-চীন সীমান্ত অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
আকস্মিক বন্যার ফলে ভেঙে পড়েছে দুই দেশকে সংযোগকারী ‘ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ’ বা ‘মৈত্রী সেতু’। এতে সীমান্তবর্তী পুরো অঞ্চল বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৮ জুলাই) ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যার কারণে নেপাল ও চীনকে সংযুক্তকারী সেতুটি ধসে পড়ে। নেপালের আবহাওয়া বিভাগ ধারণা করছে, সীমান্তের কাছে একটি হিমবাহ হ্রদের বিস্ফোরণ থেকেই এই আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বন্যায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ১৯ জন, যাদের মধ্যে ১৩ জন নেপালি ও ৬ জন চীনা নাগরিক। ভূমিধসের কারণে অনেক পর্যটকও আটকে পড়েছেন দুর্গম এলাকায়। তাদের উদ্ধারে নেপালের সেনাবাহিনী কাজ করছে।
জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (NDRRMA) জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ৬ জন চীনা কর্মী এবং ৩ জন নেপালি পুলিশ সদস্য রয়েছেন।
বন্যার তীব্রতায় ৮টি বৈদ্যুতিক গাড়ি নদীতে ভেসে গেছে এবং একটি ছোট জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাস্তা, সেতু, এবং সীমান্ত এলাকায় চীনা সহায়তায় নির্মিত অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার ডিপো। চীন থেকে আমদানি করা বেশ কয়েকটি পণ্যবাহী কন্টেইনারও পানির তোড়ে ভেসে গেছে।
বন্যাকবলিত এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন বহু মানুষ। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অত্যন্ত ভয়াবহ।
এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম দ্রুততর করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
রাসুয়া জেলার জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা অর্জুন পাওদেল বলেন, “বন্যায় বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমরা উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছি এবং বিস্তারিত ক্ষতির হিসাব সংগ্রহ করছি।”
খবরওয়ালা/ আশ