খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ ও জেলা শহর মাইজদীতে তেলের সরবরাহে চরম ঘাটতির কারণে সাধারণ মানুষ ও মোটরসাইকেলচালকরা ব্যাপক সমস্যার মুখে পড়েছেন। সোমবার সকালে এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী আবু নাছের এই অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
আবু নাছের সকালে সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল নিয়ে বেগমগঞ্জ ও মাইজদীর মোট ৮টি পেট্রলপাম্প ঘুরেন অকটেন তেল সংগ্রহের জন্য। মোট পথ পাড়ি দিতে হয়েছে প্রায় ২৫ কিলোমিটার। অবশেষে তিনি জেলা শহরের পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এলাকার আবদুল হক ফিলিং স্টেশনে দাঁড়িয়ে প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর ২০০ টাকা মূল্যের তেল সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। তিনি জানান, এই তেল দিয়ে মোটরসাইকেলটি সর্বোচ্চ ৭০–৭৫ কিলোমিটার যেতে পারবে। তেল সংকটের কারণে দিনের কাজের হিসাবও রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
আবু নাছেরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে মাইজদী ও বেগমগঞ্জের ৯টি পাম্পে তেলের সরবরাহের চিত্র নিচের টেবিলে দেখানো হলো:
| এলাকা | পেট্রলপাম্প সংখ্যা | তেলের সরবরাহ অবস্থা |
|---|---|---|
| মাইজদী পুরোনো বাসস্ট্যান্ড | 1 | অকটেন পাওয়া যাচ্ছে, প্রতি মোটরসাইকেলে ২০০ টাকা |
| মাইজদী দত্তবাড়ি | 1 | তেল নেই |
| মাইজদী দত্তেরহাট | 1 | তেল নেই |
| বেগমগঞ্জ চৌমুহনী পশ্চিম বাজার | 1 | তেল নেই |
| চৌমুহনী চৌরাস্তা | 1 | তেল নেই |
| চৌমুহনী পূর্ব বাজার | 1 | তেল নেই |
| সেতুভাঙ্গা বাজার | 1 | তেল নেই |
| জমিদারহাট | 1 | তেল নেই |
| বেগমগঞ্জ চৌমুহনী অন্যান্য | 1 | তেল নেই |
পাম্পটির সামনে কয়েকশো মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। একেকটি মোটরসাইকেলে তেল দেওয়ার কারণে সময়ও বেশি লাগছে। স্থানীয় মোটরসাইকেলচালকরা জানান, গ্রামীণ হাট-বাজারের খুচরা দোকানগুলোতে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে পেট্রল ও অকটেন বিক্রি বন্ধ রয়েছে। ঈদে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি যাওয়া ও জরুরি কাজে তেলের সংকট মানুষের জন্য বিপত্তির সৃষ্টি করছে।
জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন পেট্রলপাম্পগুলোর মজুত ও সর্বশেষ সরবরাহের হিসাব নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে অবহিত করা হচ্ছে এবং ডিপোগুলোতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য যোগাযোগ করা হচ্ছে। সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
নোয়াখালীর এই তেল সংকট স্থানীয় মানুষদের দৈনন্দিন জীবন ও জরুরি কাজকর্মে উল্লেখযোগ্য অসুবিধা সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেলচালক ও ছোট ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।