খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে আষাঢ় ১৪৩২ | ৫ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) উপাচার্য কার্যালয়ে শিক্ষক বরখাস্তের দাবিতে ছাত্রসংগঠনগুলোর বিক্ষোভ ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৪ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কুশল বরণ চক্রবর্তী পদোন্নতির সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে এক বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, তাকে পরিকল্পিতভাবে ‘মব’ তৈরি করে হেনস্তা করা হয়েছে। সাক্ষাৎকারের জন্য দুপুর আড়াইটায় কার্যালয়ে গেলেও তাকে প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকতে হয়। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রশাসনের গাড়িতে করে তাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিবির ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা কুশল বরণ চক্রবর্তীর সাক্ষাৎকারের খবরে দুপুর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক খান তালাত মাহমুদকেও দেখা যায় সেখানে। আন্দোলনকারীরা সেখানে কুশল বরণ চক্রবর্তীর পদোন্নতি বোর্ড বাতিল করে তাকে বরখাস্তের দাবি জানান এবং বিকেল ৪টার দিকে তারা প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন।
কুশল উপাচার্য কার্যালয়ে ঢুকলেও -সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে সেখানে তুমুল উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ইয়াহইয়া আখতার, সহ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খান ও সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক কামাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। তবে উপাচার্যের নির্লিপ্ত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সামাজিক মাধ্যমে।
সন্ধ্যায় ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, ইসলামী ছাত্রশিবির চবি শাখার নেতা হাবিবুল্লাহ খালেদ বেশ উত্তেজিত হয়েই কথা বলছেন, অপরদিকে তার সঙ্গীদের মুখেও ছিল হইচই। কুশল বরণ চক্রবর্তী তাদের সামনাসামনিই উপস্থিত ছিলেন।
কুশল বরণ অভিযোগ করেন, “আমাকে নিয়ে যেসব প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, আমি তার জবাব দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে প্রশ্নই করা হয়নি। উল্টো সহ-উপাচার্য আমাকে ধমক দিয়ে সরিয়ে দেন।”
শিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলী অভিযোগ করে বলেন, “কুশল বরণ চক্রবর্তী একসময় আওয়ামীলীগের সহযোগী ছিলেন এবং পরে দেশের সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে বিদেশে অপপ্রচার চালিয়েছেন। তাই তার পদোন্নতির প্রতিবাদে আমরা আন্দোলন করেছি।”
বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে কুশল বরণের ভবিষ্যৎ নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষক মহলে মতভেদ তৈরি হয়েছে।
খবরওয়ালা/টিএস