নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)
২৮ অক্টোবর (মঙ্গলবার) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দুদকের পটুয়াখালী জেলা সমন্বিত দপ্তরের সহকারী পরিচালক তাপস বিশ্বাসের নেতৃত্বে একটি দল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর ও প্রশাসনিক অফিসে এ অভিযান পরিচালনা করে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাসুম বিল্লাহ ও মো. কবির শিকদার যথাক্রমে ২০০৫ ও ২০০৬ সালে কম্পিউটার অপারেটর পদে যোগ দেন এবং ২০০৮ ও ২০০৯ সালে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি পান।
কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন বিধিমালা অনুযায়ী, এ পদে উন্নতির জন্য কমপক্ষে আট বছর চাকরিকাল পূর্ণ করা বাধ্যতামূলক ছিল, যা তাদের ক্ষেত্রে মানা হয়নি। এছাড়া পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদনও নেওয়া হয়নি। এবং তারা দুজনেই এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির দাবি করেছেন, তবে সনদের সত্যতা যাচাই চলছে।
অন্যদিকে, সাকিবুল হাসান ফারুক খান ২০১৬ সালে নেটওয়ার্ক টেকনিশিয়ান পদে যোগ দিয়ে ২০২০ সালে সহকারী নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পদোন্নতি পান। তিনি রয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের দাবি করেছেন। তার সনদের বৈধতাও অনুসন্ধানে রয়েছে। অভিযানের সময় দুদক কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জব্দ করেন এবং কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
দুদক কর্মকর্তা তাপস বিশ্বাস জানান, “অভিযোগ অনুযায়ী কয়েকজন কর্মকর্তা নিয়মবিধি লঙ্ঘন করে পদোন্নতি পেয়েছেন এবং কিছু সনদ যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উল্লেখ্য, অভিযান চলার সময় পুরো ক্যাম্পাসে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে চাননি। তবে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের একাংশের মতে, দুদকের এ উদ্যোগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
খবরওয়ালা/আশ



