ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাঁচটি আসনে ভোটের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে পৃথক নির্বাচনী আবেদন করেছেন পাঁচ প্রার্থী। এই পাঁচটি আবেদন হাইকোর্টে শুনানির জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক বেঞ্চ আজ বুধবার এ আদেশ দেন।
আবেদনকারী পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে চারজন বিএনপি এবং একজন জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী। ভোটে কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে ঢাকা-৫, ঢাকা-১৩, পাবনা-৩, গাইবান্ধা-৫ এবং কুষ্টিয়া-৪ আসনে।
আবেদনকারী প্রার্থীরা ও আসনের ফলাফল
| আসন | আবেদনকারী প্রার্থী | দল/সমর্থন | প্রাপ্ত ভোট | নির্বাচিত প্রার্থী | প্রাপ্ত ভোট |
|---|---|---|---|---|---|
| ঢাকা-৫ | মো. নবী উল্লা | বিএনপি | 87,491 | মোহাম্মদ কামাল হোসেন | 96,641 |
| ঢাকা-১৩ | মো. মামুনুল হক | ১১-দলীয় ঐক্য/খেলাফত মজলিস | 86,067 | ববি হাজ্জাজ | 88,387 |
| কুষ্টিয়া-৪ | সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী | বিএনপি | 139,603 | মো. আফজাল হোসেন | 148,201 |
| পাবনা-৩ | মো. হাসান জাফির তুহিন | বিএনপি | 144,206 | মুহাম্মাদ আলী আছগার | 147,475 |
| গাইবান্ধা-৫ | মো. ফারুক আলম সরকার | বিএনপি | 73,483 | মো. আব্দুল ওয়ারেছ | 89,274 |
শুনানির প্রক্রিয়া ও আইনজীবীরা
আদালতে উপস্থিত ছিলেন প্রত্যেক প্রার্থীর পক্ষে আইনজীবী।
-
মো. মামুনুল হক: সঞ্চিতা সিদ্দিকী
-
ফারুক আলম সরকার: এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন
-
মো. নবী উল্লা: সাকিব মাহবুব
-
হাসান জাফির তুহিন: মো. নাজমুল ইসলাম
-
সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী: কে এম মামুন অর রশীদ
ঢাকা-১৩ আসনে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থী মো. মামুনুল হক কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে আবেদন করেছিলেন। হাইকোর্ট আবেদনটি শুনানির জন্য গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট এলাকার নির্বাচনী সরঞ্জাম সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন।
আগের নির্বাচনী আবেদন প্রেক্ষাপট
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী যেকোনো আপত্তি বা অভিযোগ নিয়ে হাইকোর্টে নির্বাচনী আবেদন করতে পারেন। ইতোমধ্যে ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত হাইকোর্ট ২২ প্রার্থীর ২২টি পৃথক নির্বাচনী আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন।
ভবিষ্যত সূচি
হাইকোর্ট ১৪ জুন এই পাঁচটি নির্বাচনী আবেদনের শুনানি শুরু করবে। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক বেঞ্চ নির্ধারিত দিন অনুযায়ী আবেদনগুলো নিয়মিতভাবে শুনবেন।
এই পাঁচটি আবেদন নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং ভোটের ফলাফল প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি ভোটার ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচনী প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা বজায় রাখার সুযোগ তৈরি করছে।