খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে মাত্র ৫ টাকা নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে গিয়ে ছোট ভাই আলমগীর হোসেনের প্রাণহানি ঘটেছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার করপাড়া ইউনিয়নের উত্তর বদরপুর এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন অভিযোগ করেছেন, এ ঘটনায় বড় ভাই খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে হত্যার মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের স্বামী আলমগীর এবং খোরশেদ যৌথভাবে একটি বিদ্যুৎ মিটার ব্যবহার করতেন এবং মাসিক বিল ভাগাভাগি করে পরিশোধ করতেন। চলতি মাসের বিল পরিশোধের সময় আলমগীর মাত্র ৫ টাকা কম দেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির সূত্রপাত হয়।”
ঘটনার দিন সন্ধ্যায় আলমগীর স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে চা পান করতে গেলে সেখানে খোরশেদ ও আরও কয়েকজন তাকে মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় আলমগীরকে ঘটনাস্থলেই ফেলে রাখা হয়। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রামগঞ্জ থানার ওসি ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিল নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর আলমগীর মারা যান। আমরা তদন্ত শুরু করেছি; তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।”
| সময় | ঘটনা বিবরণ |
|---|---|
| ২১ ফেব্রুয়ারি, সন্ধ্যা ৭:৩০ | আলমগীর ও খোরশেদ বিদ্যুৎ বিল নিয়ে কথা কাটাকাটি করেন |
| সন্ধ্যা ৮:০০ | আলমগীর চায়ের দোকানে যান |
| সন্ধ্যা ৮:১৫ | দোকানে খোরশেদসহ কয়েকজন তার উপর আঘাত করেন |
| সন্ধ্যা ৮:৪৫ | আহত অবস্থায় আলমগীরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় |
| রাত ৯:০০ | চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন |
স্থানীয়রা বলছেন, এমন ছোটখাট বিষয় নিয়েও পারিবারিক কলহের ঘটনা অদূর ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যেই অভিযোগকারীর সঙ্গে কথা বলছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য সংগ্রহ করছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় সামাজিক সচেতনতার তাগিদ তৈরি হয়েছে যে, পারিবারিক বিরোধ ও ছোটখাট বিতর্ক কখনো কখনো ভয়াবহ পরিণতিতে পৌঁছাতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের লাশ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে এবং তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এটি লক্ষ্মীপুরে সাম্প্রতিক সময়ের একটি দুঃখজনক পারিবারিক ঘটনা হিসেবে পরিলক্ষিত হচ্ছে, যা স্থানীয় প্রশাসন এবং সাধারণ জনগণের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।