পাঁচ দিনেও মেলেনি সামিয়ার খোঁজ

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়নের পদ্মশাখরা এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া ১৯ বছর বয়সী তরুণী সামিয়া আক্তারের সন্ধান পাঁচ দিন পেরিয়েও পাওয়া যায়নি। পরিবারের দাবি, গত ১২ মার্চ দুপুরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে তিনি আর ফেরেননি। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। নিখোঁজের সময় যত বাড়ছে, ততই পরিবারে উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তা গভীর হচ্ছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সামিয়া আক্তার পদ্মশাখরা এলাকার মো. আব্দুল সালামের মেয়ে। গত ১২ মার্চ আনুমানিক দুপুর ১২টার দিকে তিনি পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। প্রথমে পরিবারের সদস্যরা ধারণা করেছিলেন, তিনি হয়তো পরিচিত কারও বাড়িতে গেছেন বা ব্যক্তিগত কোনো প্রয়োজনে বাইরে বেরিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও তিনি বাড়ি না ফেরায় স্বজনরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়েও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

সামিয়ার ভাই মো. আয়ানিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বোনের কোনো খোঁজ না পেয়ে তিনি সাতক্ষীরা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। তিনি প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পরিবারের সবাই চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন। তার ভাষ্য, সামিয়া কোথায় আছেন, কেমন আছেন, আদৌ নিরাপদে আছেন কি না—এমন কোনো তথ্যই এখন পর্যন্ত পরিবারের কাছে নেই।

স্থানীয়ভাবে এ ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একটি তরুণী কয়েক দিন ধরে নিখোঁজ থাকলেও তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য না মিলায় পরিবার ছাড়াও এলাকাবাসীর মধ্যেও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। এমন ঘটনায় প্রাথমিক কয়েকটি দিনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ এই সময়েই সম্ভাব্য গতিপথ, যোগাযোগের সূত্র, শেষবার কোথায় দেখা গেছে—এসব তথ্য সংগ্রহ করে অনুসন্ধান জোরদার করা সম্ভব হয়।

তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে কিছু অমিলও দেখা গেছে। কোথাও তার নাম সামিয়া আক্তার, কোথাও সামিয়া আফরিন উল্লেখ করা হয়েছে; আবার কোনো কোনো প্রতিবেদনে তাকে কলেজছাত্রী বলেও বর্ণনা করা হয়েছে। এ কারণে তদন্তের স্বার্থে সঠিক পরিচয়, বয়স, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে একীভূত তথ্য সংগ্রহ করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিবারের মূল বক্তব্য, যেই পরিচয়েই তাকে উল্লেখ করা হোক না কেন, নিখোঁজ তরুণীকে দ্রুত খুঁজে বের করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

নিখোঁজের ঘটনার পর সাধারণ ডায়েরি করা পরিবারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি রেকর্ডে নিতে পারে এবং প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান প্রক্রিয়া শুরু করতে সুবিধা হয়। পরিবার ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা, থানার পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি, সম্ভাব্য যাতায়াতপথ যাচাই, পরিচিতজনদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান দ্রুত জোরদার করা হবে।

নিচে ঘটনাটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—

বিষয় তথ্য
নিখোঁজ তরুণীর নাম সামিয়া আক্তার
বয়স ১৯ বছর
এলাকা পদ্মশাখরা, ভোমরা ইউনিয়ন, সাতক্ষীরা সদর
পিতার নাম মো. আব্দুল সালাম
নিখোঁজ হওয়ার তারিখ ১২ মার্চ
সম্ভাব্য সময় দুপুর আনুমানিক ১২টা
আইনি পদক্ষেপ সাতক্ষীরা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি
বর্তমান অবস্থা পাঁচ দিনেও সন্ধান মেলেনি

এদিকে সামিয়ার সন্ধান না পাওয়ায় তার পরিবার চরম দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপে দিন কাটাচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, কেউ তার সম্পর্কে কোনো তথ্য জানলে নিকটস্থ থানায় অথবা পরিবারের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করতে। একটি তরুণ প্রাণের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় এখন পুরো পরিবার। তার সন্ধান মিলুক—এই প্রত্যাশাই এখন স্বজনদের একমাত্র ভরসা।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।