খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 26শে ভাদ্র ১৪৩২ | ১০ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় পাওনা টাকা আদায়ে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন এক কাঠুরে। দেনাদারদের নাম ও পাওনা টাকার পরিমাণ লিখে ব্যানার টাঙিয়ে দিয়েছেন তিনি।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের পাশাপাশি সমালোচনারও সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নের টঙ্গির চর গ্রামে।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, টঙ্গির চর গ্রামের মৃত জুম্মন খানের ছেলে ইনতাজ আলী ব্যাপারী দীর্ঘদিন কাঠ কেটে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তবে বয়স বাড়ায় আগের মতো আর কাজ করতে পারেন না। এর মধ্যেই গত পাঁচ বছরে স্থানীয় ছয়জনের কাছে প্রায় ২৫ হাজার টাকা পাওনা রয়েছেন তিনি।
বারবার তাগাদা দিয়েও টাকা না পাওয়ায় সম্প্রতি থানায় অভিযোগ করেন ইনতাজ আলী। কিন্তু সমাধান না মেলায় অন্য পথ বেছে নেন তিনি। এরপর ৪ বাই ৫ ইঞ্চির একটি ডিজিটাল ব্যানারে দেনাদারদের নাম, পাওনা টাকার পরিমাণ ও সতর্কবার্তা লিখে বিভিন্ন স্থানে টাঙিয়ে দেন।
ওই ব্যানারে লেখা রয়েছে—
‘থানা থেকে অর্ডার এই বিষয়টা এলাকাবাসীকে জানানোর জন্য। যদি এই টাকা না দেন, তাহলে থানায় মামলা হবে।’
ব্যানারে ছয়জন দেনাদারের নাম ও তাদের কাছে পাওনা টাকার পরিমাণও উল্লেখ করা হয়। তারা হলেন—
১। দিলু ব্যাপারী – ৬,০০০ টাকা
২। হুমায়ুন ব্যাপারী – ২,৬০০ টাকা
৩। সুজন ব্যাপারী – ৭৫০ টাকা
৪। নজরুল ব্যাপারী – ২,৪০০ টাকা
৫। বারেক গাছের ব্যাপারী – ১৩,০০০ টাকা
৬। রতন গাছ কাটে – ২০০ টাকা
ঘটনার পর ব্যানারের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কেউ এটিকে ‘সাহসী উদ্যোগ’ বলে প্রশংসা করছেন, আবার অনেকে একে ‘ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস’ ও ‘হেয় করার চেষ্টা’ বলে সমালোচনা করছেন।
এ বিষয়ে ইনতাজ আলী সাংবাদিকদের বলেন,
‘এতবার কইছি, তাও টেহা দিল না। তাই মাইনসেরে জানাইতে আর হেরারে একটু লজ্জা দিবার লাইগা এই কাম করছি। তাও যদি না দেয়, তাইলে মাইকে কইরা পাড়া-মহল্লায় বাইর হইমু।’
এ বিষয়ে নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার জালাল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘এ ধরনের প্রচারণা চালাতে থানা থেকে কাউকে বলা হয়নি। ইনতাজ আলী যদি লিখিত অভিযোগ করেন তাহলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
খবরওয়ালা/শরিফ