খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 6শে মাঘ ১৪৩২ | ১৯ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার রাজনৈতিক বৈরিতা নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে এই দ্বৈরথের প্রভাব যখন ক্রিকেট মাঠে পড়ে, তখন তা বিশ্বজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করে। বিশেষ করে ভারতের মাটিতে বড় কোনো টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হলে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারদের ভিসা পাওয়া নিয়ে তৈরি হয় এক ধরণের অনিশ্চয়তা। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আবারও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এবার এই জটিলতা নিরসনে এবং খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরাসরি অভিভাবক সংস্থা হিসেবে মাঠে নেমেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
সাধারণত পাকিস্তানি পাসপোর্টধারী বা পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত অন্য দেশের নাগরিকদের জন্য ভারতের ভিসা প্রক্রিয়ায় কঠোর নিরাপত্তা যাচাই এবং দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়। আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য বিভিন্ন দেশের স্কোয়াডে থাকা ৪২ জন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার ও কর্মকর্তাদের ভিসা নিশ্চিত করাই এখন আইসিসির প্রধান চ্যালেঞ্জ। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত পেসার আলী খান অভিযোগ করেন যে, ভারত তার ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। শুধু আলী খানই নন, উইকেটরক্ষক শায়ান জাহাঙ্গীর, পেসার এহসান আদিল ও লেগ স্পিনার মোহাম্মদ মহসিনের নামও উঠে এসেছে এই তালিকায়।
অন্যদিকে, ইংল্যান্ড দলের তিন তারকা ক্রিকেটার আদিল রশিদ, রেহান আহমেদ এবং সাকিব মাহমুদের ভিসা নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। যদিও পরবর্তী সময়ে আইসিসির মধ্যস্থতায় তারা ভিসা পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। নেদারল্যান্ডস ও কানাডার কিছু সদস্যও ইতোমধ্যে সবুজ সংকেত পেয়েছেন।
ভিসা জটিলতায় থাকা ও সমাধান হওয়া দলগুলোর বর্তমান চিত্র:
| দেশের নাম | সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটার/কর্মকর্তা | বর্তমান অবস্থা |
| যুক্তরাষ্ট্র | আলী খান, শায়ান জাহাঙ্গীর ও অন্যান্য | আইসিসির অধীনে প্রক্রিয়াধীন |
| ইংল্যান্ড | আদিল রশিদ, রেহান আহমেদ, সাকিব মাহমুদ | ভিসা মঞ্জুর করা হয়েছে |
| নেদারল্যান্ডস | পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সদস্যরা | ভিসা মঞ্জুর করা হয়েছে |
| কানাডা | শাহ সেলিম জাফর (স্টাফ) ও অন্যান্য | ভিসা প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়েছে |
| সংযুক্ত আরব আমিরাত | দলের একাধিক সদস্য ও কর্মকর্তা | সাক্ষাৎকার আগামী সপ্তাহে |
| ইতালি | নির্দিষ্ট খেলোয়াড় ও স্টাফ | চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার অপেক্ষায় |
ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গেছে, আইসিসি এই মুহূর্তে বিভিন্ন দেশের ভারতীয় হাইকমিশনের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করছে। সংস্থাটি চায় না কোনো যোগ্য খেলোয়াড় কেবলমাত্র আমলাতান্ত্রিক বা রাজনৈতিক কারণে বিশ্বমঞ্চে পারফর্ম করা থেকে বঞ্চিত হোক। আগামী ৩১ জানুয়ারিকে ভিসা ইস্যু করার চূড়ান্ত সময়সীমা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
আইসিসি আশ্বস্ত করেছে যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই ঝুলে থাকা ৪২ জন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আবেদন নিষ্পত্তি হবে। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইতালির খেলোয়াড়দের ভিসা ইন্টারভিউয়ের তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এটিই মূলত ভিসা প্রাপ্তির শেষ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়।
টুর্নামেন্ট শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি। আইসিসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই সময়ের অন্তত এক সপ্তাহ আগেই সব লজিস্টিকস এবং প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করা হবে। লক্ষ্য হলো, প্রতিটি দল যেন কোনো প্রকার মানসিক বা আইনি চাপ ছাড়াই মাঠে নামতে পারে। ক্রিকেটের বৈশ্বিক ভাতৃত্ব বজায় রাখতে আইসিসির এই সক্রিয় ভূমিকা ক্রীড়া বিশ্বে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে উঠে খেলাকে প্রাধান্য দেওয়াই এখন আয়োজক দেশ এবং আইসিসির মূল লক্ষ্য।