খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে চৈত্র ১৪৩২ | ২২ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটার ও সাবেক অধিনায়ক সুনীল গাভাস্কার আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। একসময় ব্যাট হাতে যিনি ক্রিকেটবিশ্বকে শাসন করেছেন, এখন তাঁর মন্তব্যই নতুন বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের আর্থিক সুবিধা পাওয়া নিয়ে তাঁর মন্তব্যকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ‘দ্বিমুখী নীতি’–র অভিযোগ, যার জবাব দিতে গিয়ে আরও সরব হয়েছেন তিনি।
বিতর্কের সূত্রপাত ইংল্যান্ডের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ ‘দ্য হানড্রেড ২০২৬’-এর নিলাম থেকে। সেখানে পাকিস্তানের স্পিনার আবরার আহমেদকে দলে ভেড়ায় সানরাইজার্স লিডস। এই দলটি চেন্নাইভিত্তিক সান গ্রুপের মালিকানাধীন, যার নেতৃত্বে আছেন শিল্পপতি কালানিথি মারান। তাঁর মেয়ে কাব্য মারান ইতোমধ্যেই সানরাইজার্স হায়দরাবাদসহ একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজির সহমালিক হিসেবে পরিচিত।
এই প্রেক্ষাপটে গাভাস্কার উদ্বেগ প্রকাশ করেন—ভারতীয় মালিকানাধীন বা সংশ্লিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজির মাধ্যমে পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা পরোক্ষভাবে আর্থিক সুবিধা পেতে পারেন। তাঁর মতে, দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় এমন লেনদেন প্রশ্নবিদ্ধ। তবে তাঁর এই মন্তব্যেই উল্টো সমালোচনার ঝড় ওঠে।
সমালোচকদের বক্তব্য, গাভাস্কার একদিকে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অর্থপ্রাপ্তির বিরোধিতা করছেন, অন্যদিকে নিজে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা আয়োজিত ধারাভাষ্যে যুক্ত থেকে বা পাকিস্তানি সাবেক ক্রিকেটারদের সঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে একই ধরনের প্ল্যাটফর্মে উপস্থিত হচ্ছেন। ফলে তাঁর অবস্থানকে অনেকেই ‘দ্বিমুখী’ বলে আখ্যা দেন।
এমন অভিযোগের জবাবে গাভাস্কার স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তাঁর ধারাভাষ্য কার্যক্রম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)–এর অধীনে পরিচালিত হয়। এসব আয় থেকে নির্দিষ্ট কোনো দেশ নয়, বরং অংশগ্রহণকারী সব দেশের বোর্ডই সুবিধা পায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমি কোনো ব্যক্তিকে পারিশ্রমিক দিই না, কোনো দেশের খেলোয়াড়কেও নয়। তাহলে আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ কেন?’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাঁর মূল আপত্তি ভারতীয় উৎস থেকে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সরাসরি বা পরোক্ষ আর্থিক সুবিধা পাওয়া নিয়ে। তাঁর দাবি, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে অতীতে কখনো ভারতীয়দের এ ধরনের আর্থিক সুযোগ দেওয়া হয়নি, ফলে বিষয়টি একপাক্ষিক হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
এদিকে আরেকটি বিতর্ক তৈরি হয় আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ২০২৫ চলাকালে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত একটি ইউটিউব শো ঘিরে। ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড ড্রেসিংরুম’ নামের ওই অনুষ্ঠানে গাভাস্কারের সঙ্গে ছিলেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম ও ওয়াকার ইউনিস। সমালোচকদের মতে, যেখানে তিনি সম্পর্ক সীমিত রাখার কথা বলছেন, সেখানে একই মঞ্চে তাঁদের সঙ্গে অংশগ্রহণ তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তবে গাভাস্কার এ ক্ষেত্রেও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তাঁর দাবি, ওই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য তিনি কোনো পারিশ্রমিক নেননি। এমনকি এশিয়া কাপ ঘিরে অনুরূপ অনুষ্ঠানেও তাঁর কোনো আনুষ্ঠানিক বা আর্থিক সম্পৃক্ততা ছিল না।
নিচে গাভাস্কারকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের মূল বিষয়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | গাভাস্কারের অবস্থান | সমালোচকদের অভিযোগ |
|---|---|---|
| ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে পাকিস্তানি খেলোয়াড় | ভারতীয় উৎস থেকে অর্থপ্রাপ্তির বিরোধিতা | অবস্থান অতিরিক্ত কড়া |
| ধারাভাষ্য প্যানেল | আইসিসি/এসিসি–নিয়ন্ত্রিত, ব্যক্তিগত দায় নেই | পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ততা |
| ইউটিউব শো অংশগ্রহণ | কোনো পারিশ্রমিক নেননি | বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক |
সব মিলিয়ে, গাভাস্কারের বক্তব্যে স্পষ্ট যে তিনি নিজ অবস্থানকে নীতিগত বলে মনে করেন। তবে ক্রিকেটভিত্তিক বৈশ্বিক সংযোগের এই যুগে তাঁর মতামত কতটা বাস্তবসম্মত—তা নিয়েই এখন চলছে বিস্তর আলোচনা।