খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৫
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে আকস্মিক বন্যায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে একের পর এক গ্রাম। বুনের জেলার বেশন্ত্রি গ্রামে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যে, মৃতদের দাফনের মতো পর্যাপ্ত মানুষও সেখানে পাওয়া যাচ্ছিল না।
স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় পাশের গ্রামের মানুষরা মরদেহ উদ্ধার ও দাফনের কাজ সম্পন্ন করছেন। বুনেরের ব্যবসায়ী নূর ইসলাম জানান, ‘দুপুরে যখন গ্রামে পৌঁছাই, তখন একটি ঘরও অক্ষত ছিল না। সন্ধ্যা নাগাদ আমি বেশ কয়েকটি জানাজায় অংশ নিয়েছি এবং ছয়টি কবর খননে সাহায্য করেছি।’
প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (পিডিএমএ) জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যায় প্রদেশজুড়ে ৩০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায়। আহত হয়েছেন অন্তত ২৩ জন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭৪টি ঘরবাড়ি, যার মধ্যে ১১টি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
বেশন্ত্রি গ্রামের স্থানীয় মসজিদের ইমাম মওলানা আব্দুল সামাদের পাঁচজন পরিবারের সদস্য এখনও নিখোঁজ। পীর বাবা সাহেব উপজেলার প্রাক্তন কর্মকর্তা আশফাক আহমদের ১৪ সদস্যের পরিবারের মধ্যে চারজনের লাশ উদ্ধার হলেও বাকিরা নিখোঁজ রয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষায়, পুরো গ্রাম এখন মৃত্যুপুরিতে পরিণত হয়েছে। আহতরা এখানে-সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে, আর জীবিতরা মরদেহ উদ্ধার ও দাফনের কাজে ব্যস্ত।
পিডিএমএ জানিয়েছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলা বুনের, বাজাউর, সোয়াত, তোরঘর, মানসেহরা, শাংলা ও বটগ্রাম। ইতোমধ্যেই দুর্গত এলাকায় হেলিকপ্টার পাঠিয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ভারী বর্ষণ চলবে আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত। তাই নতুন করে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
খবরওয়ালা/এসআই