খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 19শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ৩ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশ ও পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের মধ্যকার নির্ধারিত একদিনের আন্তর্জাতিক সিরিজ ঘিরে অনিশ্চয়তার আবহ তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা ও যুদ্ধাবস্থার প্রভাব আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে সিরিজ পিছিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়েছে পাকিস্তানের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, এ বিষয়ে এখনো তাদের কাছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত বার্তা পৌঁছেনি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিম বলেন, “যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে তারা ভ্রমণ করতে পারবে না, তাহলে আমাদের কিছু করার থাকবে না। তবে এখন পর্যন্ত পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে আমরা কোনো চিঠি বা আনুষ্ঠানিক বার্তা পাইনি।” তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, বোর্ড আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে এবং এখনো সূচি অনুযায়ী প্রস্তুতি অব্যাহত আছে।
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পাকিস্তান দলের ৯ মার্চ ঢাকায় পৌঁছানোর কথা। ১১, ১৩ ও ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা তিনটি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ। সিরিজটি ২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দুই দলের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ দল ঘরের মাঠে ভালো পারফরম্যান্স করায় সমর্থকদের প্রত্যাশাও ছিল উঁচুতে।
পাকিস্তানের একটি শীর্ষস্থানীয় দৈনিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণ ও ভ্রমণসংক্রান্ত জটিলতার কারণে সিরিজের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ ছাড়া কোনো গুঞ্জনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| সফরকারী দল | পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল |
| ঢাকায় আগমনের সম্ভাব্য তারিখ | ৯ মার্চ |
| ম্যাচের ধরন | একদিনের আন্তর্জাতিক |
| ম্যাচের তারিখ | ১১, ১৩ ও ১৫ মার্চ |
| সিরিজের গুরুত্ব | ২০২৭ বিশ্বকাপ প্রস্তুতি |
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক সূচি নির্ধারণে কেবল দুই দেশের বোর্ড নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের নির্ধারিত ভবিষ্যৎ সফর পরিকল্পনাও বিবেচনায় থাকে। ফলে একটি সিরিজ পিছিয়ে গেলে পরবর্তী সময়ে তা পুনর্নির্ধারণ করা বেশ জটিল হয়ে পড়ে। মাঠ, সম্প্রচার, নিরাপত্তা ও দর্শক ব্যবস্থাপনাসহ নানা প্রস্তুতি আগেভাগেই সম্পন্ন করতে হয়।
এদিকে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়েরা জাতীয় লিগ ও অনুশীলন কার্যক্রমে ব্যস্ত রয়েছেন। নির্বাচক ও কোচিং বিভাগও সম্ভাব্য স্কোয়াড নিয়ে কাজ করছে। সিরিজটি আয়োজিত হলে তা দুই দলের জন্য প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তুতির বড় সুযোগ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনো স্পষ্ট নয়। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে গুঞ্জনের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে রাজি নয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ক্রিকেটপ্রেমীদের দৃষ্টি এখন দুই বোর্ডের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের দিকে—সিরিজ নির্ধারিত সময়ে হবে, নাকি নতুন সূচি ঘোষণা করা হবে, সেটিই দেখার বিষয়।