খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের পাট রপ্তানিকারীদের আর্থিক চাপ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ পুনঃনির্ধারণের আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা সম্প্রসারণ করেছে। দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনকারী খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম কাঁচা পাট রপ্তানিতে বর্তমানে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে শিপিং বিলম্ব, কাঁচামালের মূল্য ওঠানামা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রয়মূল্যের হ্রাস।
রবিবার ব্যাংকিং রেগুলেশন ও নীতি বিভাগের একটি নির্দেশনায় সব বাণিজ্যিক ব্যাংককে নতুন নীতি অনুযায়ী দ্রুত কার্যক্রম নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন নীতিমালা অনুসারে, পাট রপ্তানিকারীরা ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পরিবর্তে এখন ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ঋণ পুনঃনির্ধারণের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকা সমস্ত ঋণের ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের একটি এককালীন ২% পরিশোধ করতে হবে মোট ঋণ পরিমাণের। এই শর্ত ব্যাংকের স্বার্থ সুরক্ষার পাশাপাশি সত্যিকার অর্থে আর্থিক সমস্যায় থাকা রপ্তানিকারীদের সহায়তা প্রদান করবে। ব্যাংক কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, ছোট এই অগ্রিম অর্থ প্রদান ব্যাংকের ঝুঁকি কমানো এবং খাতের তরলতা বজায় রাখার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য রক্ষা করে।
সাম্প্রতিক সময়ে পাট শিল্পে কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করেছে, যার মধ্যে রয়েছে শিপিং এবং রপ্তানি আয় রেমিট্যান্সে বিলম্ব, কাঁচামালের দামের ওঠানামা। ফলে অনেক রপ্তানিকারী পূর্ব নির্ধারিত সময়সীমা মেনে চলতে ব্যর্থ হয়েছেন, যা ঋণ চুকানোর ঝুঁকি বৃদ্ধি করেছে এবং উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নগদ অর্থের তদারকি সংকুচিত করেছে।
বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পাট উৎপাদক দেশগুলোর মধ্যে একটি। প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে প্রাকৃতিক, পরিবেশবান্ধব ফাইবারের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় কাঁচা পাটের কৌশলগত গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে। হাজার হাজার কৃষক, পাইকার, পরিবহনকর্মী এবং প্রক্রিয়াকর্তা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এই খাতের ওপর নির্ভরশীল, তাই শিল্প এবং অর্থনীতির জন্য ধারাবাহিক নগদ প্রবাহ অত্যন্ত জরুরি।
| বিষয় | পূর্বের সময়সীমা | সম্প্রসারিত সময়সীমা | এককালীন পরিশোধের শর্ত |
|---|---|---|---|
| ডিফল্ট ঋণ পুনঃনির্ধারণের আবেদন | ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ | ৩০ জুন ২০২৬ | মোট ঋণের ২% |
বাংলাদেশ ব্যাংক নিশ্চিত করেছে, এই উদ্যোগ জনস্বার্থে নেওয়া হয়েছে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৪৫ অনুযায়ী। ব্যাংকগুলোকে যোগ্য রপ্তানিকারীদের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, ঋণ পুনঃনির্ধারণ সুবিধা অল্প সময়ের নগদ সংকটে থাকা রপ্তানিকারীদের তাৎক্ষণিক সহায়তা দেবে। ঋণ স্বাভাবিক হলে কোম্পানিগুলো আবার কার্যকরী মূলধনে প্রবেশাধিকার পাবে, যা উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম স্থিতিশীল করবে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোর নন-পরফর্মিং লোনের বোঝা কমবে।
মোটমাট, এই উদ্যোগ রপ্তানি বৃদ্ধি করবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার আয় দৃঢ় করবে, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং পাট খাতের দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়নে সহায়ক হবে।