জামায়াতে ইসলামী পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতির নামে দেশে ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করে নির্বাচনী পরিবেশ বানচালের ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নেত্রকোনার কলমাকান্দার চানপুরে রামকৃষ্ণ আশ্রমে দুর্গাপূজার অষ্টমীতে কুমারী পূজার এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
কায়সার কামাল বলেন, ‘এখানে যারা পিআরের কথা বলছেন, পিআরের জন্য কিন্তু দেশের মানুষ রক্ত দেয় নাই। পিআর নিয়ে যারা দাবি করছেন, তারা অনেকেই জানেন না পিআর কী জিনিস? সংসদীয় গণতন্ত্রের সূতিকাগার ইংল্যান্ডেও এখনো পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হয়নি। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ভারত—যেসব দেশ গণতন্ত্র চর্চা করে, তাদের দেশেও পিআর নেই। জামায়াতে ইসলামী পিআরের নাম নিয়ে ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি ও নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে, তাদের সেই অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘জামায়াতসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল পিআরের নামে নির্বাচনকে প্রলম্বিত বা বানচাল করার ষড়যন্ত্র করছে। তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, দেশে যেন গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি না হয়, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত না হয়।’
বিএনপির এ কেন্দ্রীয় নেতা আরও বলেন, ‘পিআরের দাবি নির্বাচনী ইশতেহারে থাকতে পারে। কিন্তু যারা ঠুনকো বাহানায় বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তাদের উদ্দেশে বলতে চাই—গণতান্ত্রিক ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে আমরা সবাই রক্ত দিয়েছি। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পুরো জাতি ঐক্যবদ্ধ ছিল। এখন আমাদের দায়িত্ব সেই গণতান্ত্রিক ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করা।’
কুমারী পূজা প্রসঙ্গে কায়সার কামাল বলেন, ‘কুমারী পূজা হলো নারীকে মাতৃশক্তির প্রতীক হিসেবে শ্রদ্ধা করা। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী প্রত্যেক নারীর মধ্যেই দেবীশক্তি আছে। স্বামী বিবেকানন্দ রামকৃষ্ণ মিশনে প্রথম কুমারী পূজার প্রচলন করেন। দুর্গাপূজার মধ্য দিয়ে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি বিরাজমান হোক—আমরা শান্তিতে একসঙ্গে বসবাস করতে চাই।’
খবরওয়ালা/এন



