খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 11শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২৩ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-এর বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, পুতিন ইতিমধ্যেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করেছেন এবং বিশ্বকে শান্তিপূর্ণ পথে ফিরিয়ে আনার জন্য তাঁকে বাধ্য করা অত্যন্ত জরুরি।
বিবিসির প্রতিনিধিরা এই সপ্তাহান্তে কিয়েভে ইউক্রেনের সরকারি সদর দপ্তরে জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি রাশিয়ার প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি শর্তের তীব্র বিরোধিতা জানান। পুতিনের শর্ত অনুযায়ী, ইউক্রেনকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত এলাকা থেকে সরে যেতে হবে, যা ইতিমধ্যেই ১০ হাজারের বেশি ইউক্রেনীয় সৈন্যের প্রাণের বিনিময়ে রাশিয়ার দখলে যাওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
জেলেনস্কি বলেন, “রাশিয়া বিশ্বে ভিন্ন জীবনধারা চাপাতে চায়। তারা আমাদের নাগরিকদের নিজেদের জীবন বেছে নেওয়ার অধিকার কেড়ে নিতে চায়। আমরা হাল ছাড়ব না।” তিনি আরও বলেন, তীব্র সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ ছাড়া পুতিনকে থামানো সম্ভব নয়।
বর্তমানে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের প্রায় ২০ শতাংশ। এছাড়া দক্ষিণের খেরসন এবং জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের কিছু অংশও রাশিয়ার দখলে রয়েছে। জেলেনস্কি এসব ভূখণ্ডকে ‘দুর্গ শহর’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, “এগুলো পরিত্যাগ করলে আমাদের অবস্থান দুর্বল হবে এবং লাখ লাখ মানুষ রাশিয়ার হাতে পড়বে। এটি আমাদের সমাজকে গভীরভাবে বিভক্ত করবে।”
নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক রাশিয়ার দখলকৃত ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডের পরিমাণ তুলে ধরা হলো:
| অঞ্চল | মোট এলাকা (বর্গ কিমি) | রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণ (%) | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| দোনেৎস্ক | 26,517 | 20% | ‘দুর্গ শহর’ হিসেবে পরিচিত |
| খেরসন | 28,457 | আনুমানিক 30% | দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা |
| জাপোরিঝঝিয়া | 27,183 | আনুমানিক 25% | রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ এলাকা |
বিবিসির প্রশ্নের জবাবে জেলেনস্কি বলেন, “যদি পুতিন সাময়িকভাবে সন্তুষ্ট হন, তা আমাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হবে। তাঁর বিরতি শেষ হলে তিনি নতুন অভিযানে নেমে যেতে পারেন।” তিনি সতর্ক করেছেন, পুতিনের পূর্ণ কার্যক্রম তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে পুনরায় শুরু হতে পারে, তবে বাস্তবে এটি এক বা দুই বছরের মধ্যে ঘটতে পারে।
জেলেনস্কির বক্তব্যে স্পষ্ট, ইউক্রেন বিজয়ী হিসেবে যুদ্ধ শেষ করবে এবং বিশ্বের সকল শক্তিকে শান্তি রক্ষা ও রাশিয়ার আগ্রাসন রোধে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান।
এই সাক্ষাৎকার থেকে প্রতীয়মান হয় যে, যুদ্ধবিরতি শর্ত স্বীকার করা মানে শুধু সাময়িক শান্তি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী বিপদ। জেলেনস্কি আশা প্রকাশ করেছেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং দৃঢ় প্রতিরোধের মাধ্যমে ইউক্রেন এই সংকট মোকাবেলা করতে সক্ষম হবে।