খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলায় এক রাজনৈতিক কর্মীকে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলা ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার ভোরবেলা উপজেলার সাহারবাটি-ভাটপাড়া সড়কে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এতে মুকুল হোসেন (৫৫) নামের এক বিএনপি কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোরে মুকুল হোসেন সাহারবাটি গ্রাম থেকে ভাটপাড়া গ্রামের সড়ক দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। তিনি যখন ভাটপাড়া মোড় এলাকায় পৌঁছান, তখন আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। এতে মুকুল হোসেনের বুক, পিঠ এবং হাতে একাধিক গুলি লাগে এবং তিনি গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে বেশ কয়েকটি ককটেল বা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণের বিকট শব্দ ও গুলির আওয়াজ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় মুকুলকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাঁকে দ্রুত গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
আহত মুকুল হোসেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের নেক মোহাম্মদের ছেলে। তিনি এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত। যদিও তাঁর বর্তমানে কোনো নির্দিষ্ট সাংগঠনিক পদ নেই, তবে স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি বেশ পরিচিত মুখ। তিনি গাংনী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান বাবলুর ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত এবং বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবেক সংসদ সদস্য আমজাদ হোসেনের নির্বাচনী কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ওমর ফারুকের ভাষ্যমতে, মুকুল হোসেনের শরীরে একাধিক বুলেটের আঘাত রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং শরীরের সংবেদনশীল স্থানে আঘাতের কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। উন্নত অস্ত্রোপচার ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হওয়ায় তাঁকে কুষ্টিয়ায় পাঠানো হয়েছে।
| বিষয় | তথ্য |
| আহত ব্যক্তির নাম | মুকুল হোসেন (৫৫) |
| পিতার নাম | নেক মোহাম্মদ |
| গ্রাম | সাহারবাটি, গাংনী, মেহেরপুর |
| রাজনৈতিক পরিচয় | বিএনপি কর্মী (আসাদুজ্জামান বাবলুর অনুসারী) |
| ঘটনার সময় | সোমবার ভোর |
| ঘটনার স্থান | সাহারবাটি-ভাটপাড়া সড়ক, গাংনী |
| আঘাতের ধরণ | বুক, পিঠ ও হাতে একাধিক গুলি |
| ব্যবহৃত অস্ত্র | আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমা |
| বর্তমান অবস্থান | কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল |
ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই গাংনী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ সেখান থেকে গুলির খোসাসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং পুনরায় কোনো সংঘাত এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস জানান, অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। প্রাথমিক আলামত পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মতে, পূর্বশত্রুতা অথবা এলাকায় রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলমান রয়েছে। এখনো এই ঘটনায় কোনো মামলা দায়েরের খবর পাওয়া যায়নি।