খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত ৩৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে বড় ধরনের ধাক্কার আশঙ্কা করছেন দেশের প্রধান রপ্তানি খাত ও তার সঙ্গে জড়িত কয়েক লাখ শ্রমিক।
এই শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা কমে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে ঢাকার আশপাশের পোশাক কারখানাগুলোতে চাকরি হারানোর ভয় প্রতিদিন মাথায় নিয়ে কাজ করছেন লাখো শ্রমিক।
বাংলাদেশের রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক শিল্প থেকে, যা বছরে দেশের মোট জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশে অবদান রাখে। এই খাতে কাজ করেন প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক, যাঁদের বড় অংশই নারী।
আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন ৩২ বছর বয়সী রাইমনি বালা। প্রতিদিন সকালে কাজে গিয়ে তার বুক কাঁপে—চাকরি থাকবে তো?
“গত কয়েক মাস ধরে কেবল ছাঁটাইয়ের কথাই শুনছি,” বলেন তিনি। “কারখানায় কেউ এলেই মনে হয় আমাকে হয়তো আজই বলে দেবে, তোমার কাজ শেষ।”
জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাংলাদেশকে পাঠানো এক চিঠিতে জানিয়েছেন, ১ আগস্ট থেকে বাংলাদেশের পোশাকপণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে। এপ্রিলে ঘোষিত ৩৭ শতাংশের থেকে কিছুটা কম হলেও এটি আগের গড় ১৫ শতাংশের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি।
ভিয়েতনামের ওপর ট্রাম্প ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা বলেছেন, তবে ভারত ও শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে এখনও নির্দিষ্ট হার ঘোষণা করা হয়নি। এর মানে হলো, প্রতিযোগী দেশগুলো তুলনামূলকভাবে কম শুল্কে পণ্য রপ্তানি করতে পারবে, আর বাংলাদেশি পোশাক হবে তুলনায় দামী।
এ অবস্থায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি করার আলোচনার দ্বিতীয় দফা বুধবার (আজ) শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রতিবেদক পোশাকশিল্পের অন্তত ১২ জন শ্রমিকের সঙ্গে। সবারই ভয় এক—শুল্কবৃদ্ধির চাপ, অর্ডার বাতিল ও কারখানা বন্ধের কারণে তাদের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে।
গ্যাপ, ভিএফ কর্পোরেশনের মতো বড় ব্র্যান্ডের অর্ডার পাওয়া বাংলাদেশের অনেক কারখানার সরবরাহকারীরা জানান, এসব প্রতিষ্ঠান এখন ‘অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ’ নীতিতে যাচ্ছে, নতুন অর্ডার কম দিচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, “এই শুল্ক বৃদ্ধির বোঝা কারখানা মালিক ও কোটি কোটি শ্রমিকের ওপর গিয়ে পড়বে। এর ফলে প্রবৃদ্ধি ধীর হতে পারে, চাকরি হারানোর আশঙ্কা বাড়বে, দারিদ্র্যও বাড়বে।”
রাইমনি বালার গল্পটি রাজধানীর লাখো শ্রমিকের মতোই। তিনি উত্তরবঙ্গের গ্রামের বাড়ি ছেড়ে স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলেন শহরে—নিজের দুই ছেলেকে (বর্তমানে ১৫ ও ১৩ বছর) পড়াশোনার সুযোগ করে দেবেন বলে।
তাঁর স্বামী অসুস্থ, নিয়মিত কাজ করতে পারেন না। ফলে বালার চাকরিই পরিবারে প্রধান আয়। করোনাকালে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেতন কমে গেলেও সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজে কিছু বেতন পেয়েছেন তিনি। তবুও পরিবার প্রায় না খেয়েই দিন কাটিয়েছে।
নতুন শুল্ক, অর্ডার কমার গুঞ্জন—এসবই বারবার বালাকে আতঙ্কিত করে। তবুও তিনি নিজের কাজে আস্থা রাখেন, কারণ জানেন এই চাকরিটিই তার ছেলেদের ভবিষ্যৎ।
“আমি সততার সঙ্গে কাজ করি, আমার কাজেই আমার সম্মান,” বললেন রাইমনি। “এই চাকরিটা থাকলে আমার ছেলেরা স্বপ্ন দেখতে পারবে। আর যদি না থাকে, জানি না কী হবে আমাদের।”
সূত্র: রয়টার্স
খবরওয়ালা/এমএজেড