খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 17শে বৈশাখ ১৪৩২ | ৩০ই এপ্রিল ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
নির্বাচনের ঠিক ১০ দিন আগে পদত্যাগপত্র জমা দিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন রুয়ার প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক নূরুল হোসেন চৌধুরি এবং কমিশনার অধ্যাপক মো. ফজলুল হক ।
আজ বুধবার (৩০ এপ্রিল) রুয়ার এডহক কমিটির আহ্বায়ক ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদ উদ্দীন খানের নিকট তারা এ পদত্যাগ পত্র জমা দেন।
এর ফলে নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আগামীকাল (১ মে) বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় এডহক কমিটির জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে। আগামী ১০ মে নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
এ প্রসঙ্গে এডহক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. ফরিদ উদ্দীন খান খবরওয়ালাকে বলেন, আমরা যথাসময়ে নির্বাচন করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে এই সময়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং কমিশনারের পদত্যাগ নতুন করে সংকট তৈরি করেছে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘোষণা দিয়েছিল যে তারা নির্ধারিত দিনে নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর।
এর আগে গঠনতন্ত্র অমান্য করার অভিযোগ এনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (রুয়া) নির্বাচন বর্জন করে জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী প্রাক্তনীদের একাংশ।
বিএনপিপন্থি সাবেক শিক্ষার্থীদের একাংশ ঘোষণা দিয়েছিল, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা না হলে আদালতের দ্বারস্থ হবেন তারা। তবে আদালতের দ্বারস্ত হয়েও তারা ব্যর্থ হন। এরপর থেকে নির্বাচন বানচাল করতে এই চক্রটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, নিবার্চন কমিশন এবং ভোটারদের উপর অব্যাহতভাবে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতেই পদত্যাগপত্র জমা দিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং একজন কমিশনার। পুরো বিষয়টিকে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র হিসাবে দেখছেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা অ্যালামনাইরা।
বিএনপিপন্থি সাবেক শিক্ষার্থীদের নির্বাচন বর্জনের বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রাবির প্রাক্তনী এবং সভাপতি প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, আজকের এই পরিস্থিতি তৈরির পেছনে দায়ী বিএনপিপন্থি সাবেক শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে একটা নিরপেক্ষ প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। এই সময়ে যে কোনো নির্বাচন সব থেকে সুষ্ঠু হবে। এখন নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা ছাড়া আর কিছু না।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছিল এবারের রুয়ার নির্বাচনে মোট ৫১টি পদের বিপরীতে ১২৪টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।
সার্বিক বিষয়ে রাবি উপ-উপাচার্য ও রুয়া অ্যাডহক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, এবারের রুয়া নির্বাচন একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে হচ্ছে, যা গঠনতন্ত্র মেনে হচ্ছে না। বরং এই নির্বাচন হচ্ছে গত ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ সভার নির্দেশনা অনুযায়ী। এখানে কোনো সদস্য এককভাবে নির্বাচন থেকে বিরত থাকতে পারেন। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ে একটি অরাজনৈতিক সংগঠনের নির্বাচন বয়কট করার সুযোগ নেই।
উপাচার্য ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, যে অ্যাডহক কমিটি আছে, তাদের কাজ হলো সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে, নির্বাচিত কমিটির হাতে তুলে দেওয়া। ব্যক্তিগতভাবে আমরা এটাকে মোটেই পলিটিক্যাল চেহারায় দেখতে চাই না।
খবরওয়ালা/এমএজেড