খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
গাজীপুর মহানগরীর একটি তৈরি পোশাক কারখানায় আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পাঁচটি বিশেষ ইউনিট নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আজ শনিবার সকালের দিকে সংঘটিত এই অগ্নিকাণ্ডের পর শিল্পাঞ্চলটিতে শ্রমিক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম শুরু করেছেন।
গাজীপুর মহানগরীর দিগিরচালা এলাকার মালেকের বাড়ি নামক স্থান সংলগ্ন মেট্রিক্স স্টাইল নামক পোশাক কারখানায় এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। গাজীপুর ভোগড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিজুল হক গণমাধ্যমের কাছে এই অগ্নিকাণ্ডের সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান যে, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ আজ সকাল ১০টা ৫ মিনিটে এই কারখানায় আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট সংবাদ লাভ করে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই ভোগড়া বাইপাস ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে ফায়ার ফাইটারদের পাঁচটি ইউনিট অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয় এবং সেখানে পৌঁছে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্থানীয় ইনচার্জ হিরন মিয়ার প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে এই সামগ্রিক উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা চারপাশ থেকে পানি ছিটানোর মাধ্যমে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে এখনও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
পোশাক কারখানার আশপাশে উপস্থিত স্থানীয় একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান যে, সকালের দিকে হঠাৎ করে কারখানার বহুতল ভবনের ষষ্ঠ তলা থেকে কালো ধোঁয়া এবং আগুনের তীব্র শিখা বের হতে দেখা যায়। ভবনের উচ্চতা এবং বাতাসের কারণে অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যেই কারখানার ওই নির্দিষ্ট তলার চারপাশের অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।
ভবনের ভেতর থেকে ধোঁয়া ও আগুন দেখতে পেয়ে কারখানার সাধারণ শ্রমিক এবং স্থানীয় লোকজন প্রথমে নিজেদের উদ্যোগে এবং কারখানায় থাকা প্রাথমিক অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুনের তীব্রতা এবং ধোঁয়ার পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এমতাবস্থায় কারখানার কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জরুরি ভিত্তিতে ফায়ার সার্ভিসকে বিষয়টি অবহিত করেন।
পোশাক কারখানাটিতে ঠিক কী কারণে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস কিংবা কারখানা কর্তৃপক্ষ। বৈদ্যুতিক গোলযোগ নাকি অন্য কোনো উৎস থেকে আগুনের সূত্রপাত, তা খতিয়ে দেখতে পরবর্তীতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হতে পারে।
একই সাথে, কারখানার ভেতরে কতজন শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন এবং এই ঘটনার ফলে কী পরিমাণ সুতা, কাপড় বা তৈরি পোশাক পুড়ে গেছে বা আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট বিবরণ তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। তবে সবচেয়ে স্বস্তির বিষয় হলো, সর্বশেষ তথ্য পাওয়া পর্যন্ত এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোনো শ্রমিকের প্রাণহানি কিংবা গুরুতর আহত বা হতাহত হওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ভবনের প্রতিটি তলায় কোনো শ্রমিক আটকে আছেন কি না, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
মেট্রিক্স স্টাইল পোশাক কারখানায় ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ড এবং ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কার্যক্রমের সুনির্দিষ্ট ও যাচাইকৃত তথ্যাদি নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| নির্দিষ্ট বিষয় ও বিবরণ | সংশ্লিষ্ট সঠিক তথ্য ও প্রকৃত ফ্যাক্ট |
| ক্ষতিগ্রস্ত কারখানার নাম | মেট্রিক্স স্টাইল পোশাক কারখানা |
| অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট স্থান | দিগিরচালা, মালেকের বাড়ি সংলগ্ন এলাকা, গাজীপুর |
| ভবনের তলা বা নির্দিষ্ট অংশ | পোশাক কারখানা ভবনের ষষ্ঠ তলা |
| घटनाর দিন ও তারিখ | শনিবার |
| সংবাদ প্রাপ্তির সুনির্দিষ্ট সময় | সকাল ১০টা ৫ মিনিট |
| নিযুক্ত উদ্ধারকারী সংস্থা | ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স |
| অগ্নি নির্বাপণকারী দলের সংখ্যা | ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট |
| অভিযান পরিচালনাকারী স্টেশন | ভোগড়া বাইপাস ফায়ার সার্ভিস স্টেশন |
| অভিযানের মূল নেতৃত্বদানকারী | ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ হিরন মিয়া |
| তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা | ডিউটি অফিসার আজিজুল হক |
| হতাহতের সর্বশেষ তথ্য | এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি |
| ক্ষয়ক্ষতি ও আগুনের কারণ | তাৎক্ষণিকভাবে অজ্ঞাত ও নিরূপণ সাপেক্ষ |