খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 13শে কার্তিক ১৪৩২ | ২৮ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দীর্ঘ নয় মাস বন্ধ থাকার পর আবারও পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন। আগামী ১ নভেম্বর থেকে দ্বীপে জাহাজ চলাচল শুরু হবে। সীমিত পরিসরে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে দ্বীপটি।
কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকবাহী জাহাজ চলবে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নীতিগত অনুমোদনের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আইনগত কারণে উখিয়ার ইনানী থেকে সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে, কারণ ইনানী অঞ্চলকে ‘পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ)’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন জানান, পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকেই জাহাজ চলবে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইনানী রুটে জাহাজ চলাচলের গুজব ছড়ালেও সরকার জানিয়েছে, এমন কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে পর্যটকরা কেবল দিনের বেলায় দ্বীপ ভ্রমণ করতে পারবেন। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে সীমিতভাবে রাতযাপনের অনুমতি দেওয়া হবে। ফেব্রুয়ারি থেকে আবার ভ্রমণ বন্ধ থাকবে।
প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিনে যেতে পারবেন। দ্বীপে পলিথিন, মোটরযান, বারবিকিউ পার্টি ও অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
সরকার জানিয়েছে, এসব পদক্ষেপ সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সহায়ক হবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে গত নয় মাস ধরে দ্বীপে পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ ছিল। এতে দ্বীপজুড়ে নেমে আসে নীরবতা—জেটিঘাটে থেমে ছিল জাহাজ, কর্মহীন সময় পার করছিলেন শত শত সংশ্লিষ্ট কর্মচারী।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান জানান, প্রতিদিন কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিন দ্বীপে যেতে পারবেন। পর্যটক পরিবহনের জন্য ছয়টি জাহাজকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পর্যটক ও জাহাজ পরিচালনা তদারকিতে একটি যৌথ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা ভ্রমণ নিবন্ধন ও পরিবেশগত বিধিনিষেধ পর্যবেক্ষণ করবে। পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করবে।
খবরওয়ালা/টিএসএন