খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে পৌষ ১৪৩২ | ১০ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অসাধু উপায়ে উত্তর সরবরাহের অভিযোগে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী ও রাজশাহীতে পৃথক অভিযানে মোট ১৭ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন স্থানীয় বিএনপি নেতা রয়েছেন, যা ঘটনাটিকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে আরও আলোচিত করে তুলেছে। এই দুই অভিযানে প্রশ্নফাঁস সিন্ডিকেটের সংগঠিত কার্যক্রম, আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং অর্থনৈতিক লেনদেনের গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় শুক্রবার দুপুরে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাকেন্দ্রের পাশে একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ১১ জনকে আটক করে। তাঁদের মধ্যে মিনারুল ইসলাম নামের একজন রয়েছেন, যিনি নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি আসন্ন বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবেও পরিচিত। পুলিশ জানায়, পরীক্ষায় অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার জন্য বিশেষ প্রযুক্তিসম্পন্ন ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে উত্তর সরবরাহের প্রস্তুতি চলছিল। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন প্রক্সি পরীক্ষার্থীও রয়েছে, যিনি অন্য পরীক্ষার্থীর হয়ে পরীক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন।
নাগেশ্বরী থানার ওসি আব্দুল্লা হিল জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে ছয়জনকে আটক করা হয়। পরে একই ঘটনায় জড়িত আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হলে মোট আটক সংখ্যা দাঁড়ায় ১১ জনে। তাঁদের কাছ থেকে প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্রের কপি, ডিজিটাল ডিভাইস এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই চক্র পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে প্রশ্ন ও উত্তর সরবরাহ করত।
অন্যদিকে রাজশাহীতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর মালোপাড়া কমিউনিটি ব্যাংকের এটিএম বুথ এবং উপশহরের সৃষ্টি স্কুলের সামনে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা নওগাঁ ও রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা।
আরএমপির গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার গাজীউর রহমান জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে পরীক্ষার্থীদের স্বাক্ষরযুক্ত ফাঁকা স্ট্যাম্প, ব্যাংকের ফাঁকা চেক, প্রবেশপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি এবং সাতটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এসব আলামত থেকে স্পষ্ট, প্রশ্নফাঁস চক্রটি পরীক্ষার আগেই আর্থিক চুক্তি ও প্রতারণামূলক লেনদেনের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।
| এলাকা | আটক সংখ্যা | উল্লেখযোগ্য তথ্য |
|---|---|---|
| নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম | ১১ জন | একজন বিএনপি নেতা, একজন প্রক্সি পরীক্ষার্থী |
| রাজশাহী মহানগর | ৬ জন | সংগঠিত প্রশ্নফাঁস সিন্ডিকেট |
| মোট | ১৭ জন | ডিজিটাল ডিভাইস ও আর্থিক নথি উদ্ধার |
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরীক্ষায় জালিয়াতি, প্রতারণা ও রাষ্ট্রীয় নিয়োগ প্রক্রিয়া ব্যাহত করার অভিযোগে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে। এই ঘটনায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।