খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে পৌষ ১৪৩২ | ১৮ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন আদালত প্রাঙ্গণে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটে গেল এক নাটকীয় ও আলোচিত ঘটনা। আদালত চত্বরের ভেতরে থাকা একটি প্রিজন ভ্যান থেকে ‘জয় বাংলা’সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দিতে দেখা যায় কয়েকজন আসামিকে। এ সময় ভ্যানের ভেতর থেকেই একজন আসামি গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে অভিযোগ করেন, তাকে অন্যায়ভাবে আটক করে দীর্ঘদিন কারাগারে রাখা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে ১৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যার দিকে। গাজীপুর মহানগর পুলিশের একটি প্রিজন ভ্যানে করে আসামিদের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আদালতের মূল ভবনের সামনে প্রিজন ভ্যানটি দাঁড়িয়ে থাকাকালে একটি আলোচিত মামলার বিষয়ে কয়েকজন আইনজীবী সাংবাদিকদের ব্রিফ করছিলেন। ঠিক সেই সময় ভ্যানের ভেতর থেকে হঠাৎ উচ্চস্বরে কথা ও স্লোগান শোনা যায়, যা মুহূর্তেই উপস্থিত সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
ভ্যানের ভেতরে থাকা আসামিরা সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাদের অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছে।’ তারা নিজেদের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, পরীক্ষা চলাকালীন সময় হল থেকে তুলে এনে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এরপর তারা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ এবং ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’—এ ধরনের রাজনৈতিক স্লোগান দিতে থাকেন।
একপর্যায়ে ভ্যানের ভেতর থেকেই একজন আসামি সরাসরি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, পরীক্ষা দেওয়ার সময় তাকে আটক করা হয় এবং এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি কারাগারে রয়েছেন। বিষয়টি গণমাধ্যমে তুলে ধরার জন্য তিনি সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন।
নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে ওই ব্যক্তি জানান, তার নাম আসিফ আহম্মেদ অভি। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের দ্বাদশ ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক ছিলেন বলে উল্লেখ করেন। তবে আদালত চত্বরে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট সূত্র তাৎক্ষণিকভাবে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা দিতে এসে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের হাতে আটক হন আসিফ আহম্মেদ অভি। পরীক্ষা শুরুর আগে বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাকে ঘেরাও করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তৈরি হলে বিভাগের চেয়ারম্যান তাকে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখেন।
পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সন্ধ্যা ছয়টার দিকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত হামলার ঘটনায় অভি সরাসরি জড়িত ছিলেন। এছাড়া আন্দোলনের সময় মেসে আশ্রয় নেওয়া শিক্ষার্থীদের তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সরবরাহ করার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক তখন গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, পরীক্ষার সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই উপাচার্যের অনুমতিক্রমে অভিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কোতোয়ালি থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. এনামুল হকও জানিয়েছিলেন, অভিযোগ যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।