খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 2শে পৌষ ১৪৩২ | ১৬ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ঘিরে এবার বাড়তি উন্মাদনা তৈরি হয়েছে পাকিস্তানের সাবেক গতিতারকা শোয়েব আখতারের উপস্থিতিতে। ১১ ডিসেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢাকায় আসার কথা জানানো এই কিংবদন্তি ফাস্ট বোলার গত রোববার রাজধানীতে পা রাখার পর থেকেই ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে উৎসবের আবহ বিরাজ করছে। বিপিএলের দল ঢাকা ক্যাপিটালসের মেন্টর হিসেবে যুক্ত হয়েছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্রুততম ডেলিভারির রেকর্ডধারী শোয়েব।
ঢাকার বনানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ও এখানকার ক্রিকেট সংস্কৃতির প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা তুলে ধরেন শোয়েব আখতার। বিপিএল বা নির্দিষ্ট দল নিয়ে প্রশ্ন তুলনামূলক কম হলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার, গতিময় বোলিং, প্রিয় ডেলিভারি এবং স্মরণীয় প্রতিপক্ষরা। বিশ্বের দ্রুততম বোলারকে সামনে পেয়ে এসব জানার আগ্রহই ছিল সাংবাদিকদের প্রধান আকর্ষণ।
১৪ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে পাকিস্তানের হয়ে ৪৬ টেস্টে ১৭৮ উইকেট, ১৬৩ ওয়ানডেতে ২৪৭ উইকেট এবং ১৫ টি–টোয়েন্টিতে ১৯ উইকেট শিকার করেছেন শোয়েব। ২০১১ বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার আগে বহু কিংবদন্তি ব্যাটসম্যানকে নিজের গতির কাছে নত করেছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় তিনটি ডেলিভারি সম্পর্কে জানতে চাইলে শোয়েব আগে নিজের দৃষ্টিতে সর্বকালের সেরা তিন ক্রিকেটারের নাম বলেন—শেন ওয়ার্ন, ওয়াসিম আকরাম ও শচীন টেন্ডুলকার।
এরপর মজার ছলে নিজের পছন্দের ডেলিভারি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শোয়েব বলেন, “আমার তিনটি প্রিয় ডেলিভারি হলো—শচীনকে প্রথম বলে আউট করা, ব্রায়ান লারাকে ঘাড়ে আঘাত করা আর গ্যারি কারস্টেনকে বুকে আঘাত করা।” সঙ্গে সঙ্গেই হাসতে হাসতে যোগ করেন, “না না, মজা করছি।” এরপর সিরিয়াস হয়ে তিনি বলেন, তাঁর সেরা ডেলিভারিগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০০২ সালে কলম্বোতে শচীন টেন্ডুলকার ও অ্যাডাম গিলক্রিস্টকে ইয়র্কারে আউট করা এবং ক্যারিয়ারের তৃতীয় বা চতুর্থ টেস্টে জ্যাক ক্যালিসকে অত্যন্ত গতিময় এক বল করে ফেরানো।
মাঠে আগ্রাসী মনোভাবের কারণেও শোয়েব আখতার ছিলেন আলোচিত চরিত্র। শরীর সোজা বাউন্সারে অনেক ব্যাটসম্যানকে ভয় পাইয়ে দিয়েছেন তিনি। ফাস্ট বোলিংয়ের চূড়ান্ত আনন্দ কী—বাউন্সারে হেলমেট কাঁপানো নাকি পাঁচ উইকেট নেওয়া—এমন প্রশ্নে শোয়েবের উত্তর ছিল দার্শনিক, “প্রতিটি ফাস্ট বোলারের উচিত নিজের বোলিং উপভোগ করা। লম্বা রানআপ, খোলা শার্ট, লম্বা চুল—প্রতিটি বল যেন একটি ইভেন্ট। দর্শকের জন্য শো তৈরি করুন, কিন্তু লক্ষ্য থাকবে উইকেট নেওয়া, আঘাত করা নয়।” একই সঙ্গে শচীন ও লারাকে আঘাত করে যে তাঁর ভালো লাগেনি, সেটাও স্পষ্ট করেন তিনি।
বর্তমান প্রজন্মের পেস বোলিং নিয়ে প্রশ্নে শোয়েব বলেন, টি–টোয়েন্টির ব্যস্ত সূচির কারণে আজকের বোলারদের পক্ষে আগের মতো ধারাবাহিক গতি ধরে রাখা কঠিন। তবে ছয় মাস পরিকল্পিত বিশ্রাম ও প্রশিক্ষণ পেলে দ্রুততম বোলিং এখনো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। তাঁর আক্ষেপ একটাই—আধুনিক ক্রিকেটে আগ্রাসনের ঘাটতি।
| ফরম্যাট | ম্যাচ | উইকেট |
|---|---|---|
| টেস্ট | ৪৬ | ১৭৮ |
| ওয়ানডে | ১৬৩ | ২৪৭ |
| টি–টোয়েন্টি | ১৫ | ১৯ |
সব মিলিয়ে, বিপিএলের মঞ্চে শোয়েব আখতারের উপস্থিতি শুধু দলের জন্য নয়, বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্যও এক অনন্য অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে।