খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ২২ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের হরিনা গ্রামের পাঁচ শতাধিক সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। মন্দিরের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কয়েক দিন আগে হামলার পর ঘোষপাড়া, সাহাপাড়া, জেলেপাড়া ও তাঁতিপাড়াসহ পুরো গ্রামে এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুনরায় হামলার শঙ্কায় গ্রাম ছেড়ে অনেক বাসিন্দা বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
এদিকে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে স্থানীয়রা মানববন্ধন করেন।
শুক্রবার (২২ নভেম্বর) সকালে হরিনা গ্রামের মন্দিরসংলগ্ন এলাকায় তারা মানববন্ধন করে অভিযোগ জানান, পুনরায় হামলার ভয়ে অনেকে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও মামলার তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার আগে ঢেউখালী ইউনিয়নের হরিনা গ্রামে কেদার নাথ গোপ তার নিজস্ব জমিতে রাধা গোবিন্দ মন্দির স্থাপন করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কেদার নাথ ভারতে চলে গেলে স্থানীয় হিন্দু অধিবাসীরা মন্দিরে পূজা অর্চনা চালিয়ে যান।
স্বাধীনতার পর কেদার নাথের আত্মীয় দাবি করে জয়দেব ঘোষ মন্দিরসহ ৪৫ শতাংশ জমি নিজের নামে নেয়ার জন্য জাল দলিল তৈরি করেন। এ নিয়ে আদালতে মামলা হয়। সম্প্রতি জয়দেব ঘোষ গোপনে মন্দিরসহ জমিটি বাবুল বেপারির কাছে বিক্রি করেন। পরে জমি দখলে নিতে বাবুল বেপারি, জয়দেব ঘোষসহ কয়েকশ ব্যক্তি ১৬ নভেম্বর ভোর সাড়ে ৪টায় মন্দির ভাঙচুর শুরু করে।
জানা যায়, এ সময় স্থানীয় হিন্দু বাসিন্দারা বাধা দিলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় ১৫-২০ জন গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা কয়েকটি বাড়িতে ঢুকে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ প্রায় ১২ লাখ টাকার মালামাল লুট করে। এ ঘটনায় সদরপুর থানায় মামলা করা হয়।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, মামলার পর জয়দেব ঘোষ ও বাবুল বেপারিরা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। তারা প্রতি রাতে বিভিন্ন বাড়ির সামনে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করছেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। ফলে গ্রামে পাঁচ শতাধিক পরিবার এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা নন্দ ঘোষ, সুদেব মালো, শিখা রানী মালো ও স্বপ্না ঘোষ জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে রাধা গোবিন্দ মন্দিরে পূজা করে আসছেন। সম্প্রতি জয়দেব ঘোষ তাদের পূজা দিতে বাধা দেন। এর প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর হামলা হয়। তারা দাবি করেন, জয়দেব ঘোষ কেদার নাথের উত্তরসূরি পরিচয়ে জাল দলিলের মাধ্যমে জমি দখল করতে চান এবং জমি বিক্রি করার পর তা বুঝিয়ে দিতে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। যা সিসিটিভি ফুটেজে ধরা আছে।
মন্দিরের জমি দখল ও হামলার বিষয়ে জয়দেব ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তিনি পলাতক থাকায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলার আরেক আসামি বাবুল বেপারি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সদরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুকদেব রায় বলেন, মন্দির ভাঙচুর, হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। হরিনা গ্রামে যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে সেজন্য সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন